মুসলিম ব্যক্তির ধর্ম বিশ্বাস

মুসলিম ব্যক্তির ধর্ম বিশ্বাস

মূল লেখক: শাইখ জামীল জাইনু

অনুবাদক: শাইখ আকরামুয যামান বিন আব্দুস সালাম

প্রশ্নঃ ১. আল্লাহ কেন আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন?
উত্তরঃ তাঁর ইবাদত করার জন্য এবেং কোন বস্তুকে তাঁর সহিত শরীক না করার জন্য।
কোরআন হতে দলীলঃ

{وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} (سورة الذاريات:56)

“আমি মানব ও জ্বিন জাতিকে শুধুমাত্র আমার ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছি” (সূরা যারিয়াতঃ ৫৬)

হাদীস হতে দলীলঃ
«فَإِنَّ حَقَّ اللَّهِ عَلَى الْعِبَادِ أَنْ يَعْبُدُوهُ وَلاَ يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا» (متفق عليه)
‘‘বান্দার উপর আল্লাহর হক হলো এই যে, তারা শুধু তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সহিত কাউকে শরীক স্থাপন করবে না’’ (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
প্রশ্নঃ ২. আমরা কিভাবে আল্লাহর ইবাদত করবো?
উত্তরঃ ইবাদত করতে হবে নিষ্ঠার সহিত, যেভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নির্দেশ দিয়েছেন।
কোরআন হতে দলীলঃ
{وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ} (سورة البينة:5 )

““তাদেরকে নিষ্ঠার সহিত কেবল আল্লাহরই ইবাদত করার আদেশ দেয়া হয়েছিল” (সূরা বাইয়্যিনাহঃ ৫)

হাদীস হতে দলীলঃ
«مَنْ عَمِلَ عَمَلاً لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ » (رواه مسلم)
‘‘‘যে ব্যক্তি কোন আমল করবে আমাদের নির্দেশের (কুরআন-হাদীসের) বাইরে উহা প্রত্যাখ্যাত’। (সহীহ মুসলিম)
৩. প্রশ্নঃ আমরা কি আল্লাহর ইবাদাত করবো ভীতি ও আকাংখার সাথে?
উত্তরঃ হাঁ, আমরা তাঁর ইবাদাত করবো ভীতি ও আকাংখার সাথে।
কোরআন হতে দলীলঃ
{وَادْعُوهُ خَوْفًا وَطَمَعًا} (سورة الأعراف:56 )

“‘‘আর তাঁকে (আল্লাহকে) ডাক, ভীতি ও আকাঙ্খার সাথে অর্থাৎ জাহান্নামের ভয়ে ও জান্নাতের আশায়।”’’ (সূরা আ’রাফ ৫)

হাদীস হতে দলীলঃ
«اللَّهُمَّ إِنِّى أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ» (سنن أبي داود)
‘হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট জান্নাত কামনা করি ও জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ চাই।’ (আবু দাউদ শরীফ)
৪. প্রশ্নঃ ইবাদাতের ক্ষেত্রে ইহসান কাকে বলে?
উত্তরঃ এক আল্লাহকে হাযের-নাযের (উপস্থিত) জ্ঞান রাখা, যিনি আমাদের সর্বদা দেখেন।
কোরআন হতে দলীলঃ
{إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} (سورة النساء:1)
‘‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন’’। (সূরা নিসাঃ ১)
{ الَّذِي يَرَاكَ حِينَ تَقُومُ} (سورة الشعراء :218)
‘‘যিনি আপনাকে দেখেন যখন আপনি নামাযে দন্ডায়মান হন।’’ (সূরা শুআরাঃ ২১৮)
হাদীস হতে দলীলঃ
«أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ» (رواه مسلم)
‘ইহসান হল এই যে, এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছ, যদি তাঁকে দেখতে না পাও তবে নিশ্চয় তিনি তোমাকে দেখছেন’ (সহীহ মুসলিম)
৫. প্রশ্নঃ আল্লাহ তা’য়ালা কেন রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন?
উত্তরঃ আল্লাহ তা’য়ালার একনিষ্ঠ ইবাদাতের দিকে আহবানের জন্য এবং ইবাদাতে অংশিদার স্থাপন না করার ক্ষেত্রে বাধা প্রদানের জন্য।
কোরআন হতে দলীলঃ
{وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} (سورة النحل: 36)

‘‘আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর এবং তাগু

ত থেকে নিরাপদ থাক’’।(সূরা নাহালঃ ৩৬)
হাদীস হতে দলীলঃ
«الأَنْبِيَاءُ إِخْوَةٌ مِنْ عَلاَّتٍ وَأُمَّهَاتُهُمْ شَتَّى وَدِينُهُمْ وَاحِدٌ» (متفق عليه)
‘নবীগণ পরস্পরের ভাই এবং তাদের মাতা ভিন্ন পক্ষান্তরে তাদের দ্বীন এক (অর্থাৎ প্রত্যেক রাসূলই তাওহীদের দিকে আহবান করে গেছেন)।’ (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)

৬. প্রশ্নঃ তাওহীদুল ইলাহ্ কি? বা কাকে বলে?
উত্তরঃ ইবাদাত যথা দু’আ, নযর ও শাসনের ক্ষেত্রে আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা।
কোরআন হতে দলীলঃ

{فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ} (سورة محمد: 19)

‘‘জেনে রাখুন, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।’’।(সূরা মুহাম্মাদঃ ১৯)

হাদীস হতে দলীলঃ
«ادْعُهُمْ إِلَى شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ» (متفق عليه)
‘সর্ব প্রথম যে বিষয়ের দা’ওয়াত দিবে সেটা হলো, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এ সাক্ষ্য প্রদানের দিকে।’ (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
৭. প্রশ্নঃ ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর অর্থ কি?
উত্তরঃ আল্লাহ ব্যতীত সত্যিকার কোন মা’বুদ বা উপাস্য নাই।
কোরআন হতে দলীলঃ
{ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ الْبَاطِلُ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ} (سورة لقمان: 30)

‘‘এটাই প্রমাণ যে, আল্লাহ-ই সত্য এবং আল্লাহ ব্যতীত তারা যাদের পূজা করে সব মিথ্যা। আল্লাহ সর্বোচ্চ, মহান।’’।(সূরা লোকমানঃ ৩০)

হাদীস হতে দলীলঃ
«مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَكَفَرَ بِمَا يُعْبَدُ مِنْ دُونِ اللَّهِ حَرُمَ مَالُهُ وَدَمُهُ» (رواه مسلم)
‘যে ব্যক্তি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলল এবং আল্লাহ ব্যতীত যার ইবাদাত করা হয় তাকে অস্বীকার করল, তার রক্ত ও সম্পদ হারাম।’ (সহীহ মুসলিম)
৮. প্রশ্নঃ আল্লাহর গুণাবলীর তাওহীদ কাকে বলে?
উত্তরঃ যে সমস্ত গুণাবলী আল্লাহ নিজে কিংবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করেছেন উহা ঐভাবে সাব্যস্ত করা।
কোরআন হতে দলীলঃ
{فِيهِ لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} (سورة الشورى:11)

‘‘কোন কিছুই তাঁর অনুরূপ নয়। তিনি সব শুনেন, সব দেখেন।’’।(সূরা শুরাঃ ১১)

হাদীস হতে দলীলঃ
«يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا» (متفق عليه)
‘আমাদের প্রতিপালক মহান আল্লাহ তা’য়ালা প্রতি রাত্রে দুনিয়াস্থ আসমানে অবতরণ করেন। (এমনই তাঁর সেই অবতরণ যেমন তার মহান শানের জন্য প্রযোজ্য)।’ (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
৯. প্রশ্নঃ মুসলিম ব্যক্তির জন্য তাওহীদ কোন উপকার বয়ে আনে কি?
উত্তরঃ হাঁ, দুনিয়ার হিদায়াত ও আখিরাতে নিরাপত্তা বয়ে আনে।
কোরআন হতে দলীলঃ
{الَّذِينَ آَمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ} (سورة الأنعام: 82)

‘‘যারা ঈমান আনে এবং স্বীয় বিশ্বাসকে শেরেকীর সাথে মিশ্রিত করে না, তাদের জন্যেই শান্তি এবং তারাই সুপথগামী।’’।(সূরা আনআমঃ ৮২)

হাদীস হতে দলীলঃ
«وَحَقُّ الْعِبَادِ عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ لاَ يُعَذِّبَ مَنْ لاَ يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا» (رواه مسلم)
‘আল্লাহর উপর বান্দার হক এই যে, তিঁনি যেন ঐ বান্দাদের শাস্তি না দেন যারা তাঁর সঙ্গে কোন বস্তুকে শরীক সাব্যস্ত করেনি।’ (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
১০. প্রশ্নঃ আল্লাহ কোথায় আছেন?
উত্তরঃ আল্লাহ আসমানে আরশের উপর আছেন।
কোরআন হতে দলীলঃ
{الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} (سورة طه: 5)

‘‘রহমান আরশের উপর সমুন্নত।’’।(সূরা ত্বহাঃ ৫)

হাদীস হতে দলীলঃ
«لَمَّا خَلَقَ اللَّهُ الْخَلْقَ كَتَبَ فِى كِتَابِهِ -هُوَ يَكْتُبُ عَلَى نَفْسِهِ، وَهْوَ وَضْعٌ عِنْدَهُ عَلَى الْعَرْشِ – إِنَّ رَحْمَتِى تَغْلِبُ غَضَبِى» (رواه البخاري)
‘আল্লাহ তা’য়ালা যখন সৃষ্টিকুল সৃষ্টি করেন লওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ করে রাখেন যেটি আরশের উপর সংরক্ষিত। আর আমার রহমত আমার ক্রোধের উপর প্রাধান্য পেয়েছে।’ (সহীহ বুখারী)

১১. প্রশ্নঃ আল্লাহ তা’য়ালা কি আমাদের সাথে স্বশরীরে রয়েছেন না ইলম বা জ্ঞানের মাধ্যমে?
উত্তরঃ আল্লাহ তা’য়ালা জ্ঞান ও দর্শনের মাধ্যমে আমাদের সাথে রয়েছেন, স্বশরীরে নয়।
কোরআন হতে দলীলঃ

{قَالَ لَا تَخَافَا إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَى} (سورة طه: 46)

‘‘আল্লাহ তা’য়ালা বলেন (মূসা [আঃ] ও হারুন [আঃ] কে) তোমরা (দুইজন) ভয় করোনা, নিশ্চয় আমি তোমাদের সঙ্গেই রয়েছি, শ্রবণ করব এবং দেখব (হিফাযত, সাহায্য ও সমর্থনের মাধ্যেমে)।’’ (সূরা ত্বহাঃ ৪৬)
হাদীস হতে দলীলঃ

«إِنَّكُمْ تَدْعُونَ سَمِيعًا قَرِيبًا وَهُوَ مَعَكُمْ» (رواه مسلم)

‘নিশ্চয় তোমরা আহবান কর অতি নিকটবর্তী শ্রবণকারীকে, যিনি তোমাদের সঙ্গে রয়েছেন। (তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে শুনছেন ও দেখছেন)।’ (সহীহ মুসলিম)

 

১২. প্রশ্নঃ সবচেয়ে বড় পাপ কি?
উত্তরঃ সবচেয়ে বড় পাপ হলো বড় শির্ক।
কোরআন হতে দলীলঃ

{إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ } (سورة النساء: 48)

‘‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন।’’ (সূরা নিসাঃ ৪৬)
হাদীস হতে দলীলঃ

«(سُئِلَ صلى الله عليه وسلم أيُّ الذَّنب أعظم؟ قَالَ: أَنْ تدعوَ للهِ ندّاً وَهُوَ خلقك» (رواه مسلم)

‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল কোন্ পাপটি সবচেয়ে বড়? তিনি বলেছিলেন, কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ হিসেবে ডাকা অথচ তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন)।’ (সহীহ মুসলিম)

 

১৩. প্রশ্নঃ বড় শির্ক কাকে বলে?
উত্তরঃ যে কোন ইবাদত গায়রুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি বা বস্তুর জন্য করা যেমন- কবর, মাজার ও অলীর নিকট দু’আ, নযর, সিজদা, কুরআনী, পশু জবাই, বিপদে মুক্তি কামনা করা ও ছেলে-মেয়ে চাওয়া প্রভৃতি।
কোরআন হতে দলীলঃ

{قُلْ إنّما أدعوا ربِّي وَلاَ أُشركُ بِهِ أحداً} (الجن: 20)

‘‘আপনি বলুন! আমি একমাত্র আমার প্রতিপালককেই আহবান করি, আর তাঁর সহিত অন্য কাউকে তাঁর অংশীদার গণ্য করি না।’’ (সূরা জ্বিনঃ ২০)
হাদীস হতে দলীলঃ

«أَكْبَرُ الْكَبَائِرِ الإِشْرَاكُ بِاللَّهِ» (رواه البخاري)

‘সবচেয়ে বড় গুনাহ হল আল্লাহর সহিত অন্য কাউকে অংশীদার বানানো।’ (সহীহ বুখারী)

 

১৪. প্রশ্নঃ বড় শির্কের ক্ষতি কি?
উত্তরঃ বড় শির্ক জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়ার কারণ।
কোরআন হতে দলীলঃ

{إنّه مَن يُشرِك باللهِ فَقَدْ حرّمَ اللهُ عَلَيهِ الجنّة ومأواهُ النّار} (المائدة:72)

‘‘নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির করে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত হারাম করে দেন। এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোন সাহায্যকারী করি না।’’ (সূরা মায়েদাঃ ৭২)
হাদীস হতে দলীলঃ

«مَنْ مَاتَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ النَّارَ» (متفق عليه)

‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সহিত কোন বস্তুকে অংশী স্থাপন করে মারা যাবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)

 

১৫. প্রশ্নঃ শির্কের সাথে আমল কোন উপকারে আসবে কি?
উত্তরঃ শির্কের সাথে কোন আমলই উপকারে আসবে না।
কোরআন হতে দলীলঃ

{وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} (الأنعام:88)

‘‘যদি তারাও (নবীগণও) শির্ক বা অংর্শী স্থাপন করত, তবে তাদের কাজ কর্ম তাদের জন্যে ব্যর্থ হয়ে যেত।’’ (সূরা আনআমঃ ৮৮)
হাদীস হতে দলীলঃ

«مَنْ عَمِلَ عَمَلاً أَشْرَكَ فِيهِ مَعِى غَيْرِى تَرَكْتُهُ وَشِرْكَهُ ») حديث قدسي-رواه مسلم)

‘যে ব্যক্তি কোন আমল করলো এবং উহাতে আমার সহিত অন্য কাউকে শরীক বা অংর্শী স্থাপন করলো, আমি তাকে এবং তার শির্কী আমল উভয়কেই পরিত্যাগ করবো।’ (সহীহ মুসলিম)

১৬. প্রশ্নঃ মুসলমানদের ভিতরে শির্ক আছে কি?
উত্তরঃ হাঁ, দুঃখ জনক হলেও সত্য যে উহা ব্যাপক ভাবে মুসলমানদের মাঝে বিদ্যমান।
কোরআন হতে দলীলঃ

{وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ} (يوسف: 106)

‘‘অনেক মানুষ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু সাথে সাথে শির্কও করে।’’ (সূরা ইউসূফঃ ১০৬)
হাদীস হতে দলীলঃ

«لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَلْحَقَ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِى بِالْمُشْرِكِينَ وَحَتَّى يَعْبُدُوا الأَوْثَانَ» (سنن الترمذي)

‘ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না যতক্ষণ আমার উম্মাতের অনেক গোত্র মুশরিকদের সঙ্গে মিলে না যায় ও তাদের দ্বারা মূর্তি পূজা সংঘটিত না হয়।’ (সূনানে তিরমিযী)

 

১৭. প্রশ্নঃ আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে আহবান বা প্রার্থনা করা যেমন অলী-আউলিয়াকে আহবান করা বা তার নিকট প্রার্থনা করার বিধান কি?
 উত্তরঃ আল্লাহ ব্যতীত অন্যেকে আহবান বা প্রার্থনা করা শির্ক, যা জাহান্নাম অনিবার্য করে।
কোরআন হতে দলীলঃ

{فَلَا تَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آَخَرَ فَتَكُونَ مِنَ الْمُعَذَّبِينَ} (الشعراء: 213)

‘‘অতএব, আপনি আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে আহবান করবেন না। করলে শাস্তিতে পতিত হবেন।’’ (সূরা শুআরাঃ ২১৩)
হাদীস হতে দলীলঃ

«مَنْ مَاتَ وَهْوَ يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ نِدًّا دَخَلَ النَّارَ» (صحيح البخاري)

‘যে ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করবে এমতাবস্থায় যে সে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে প্রার্থনা করত, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।।’ (সহীহ বুখারী)

 ১৮. প্রশ্নঃ দু’আ করা কি আল্লাহর ইবাদাত?
উত্তরঃ হাঁ, দু’আ করাও আল্লাহর ইবাদাত।
কোরআন হতে দলীলঃ

{وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ} (غافر:60)

‘‘তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব।’’ (সূরা গাফেরঃ ৬০)
হাদীস হতে দলীলঃ

«الدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ»(سنن الترمذي)

‘দু’আ করাও ইবাদাত।’ (সূনানে তিরমিযী)

 

১৯. প্রশ্নঃ মৃত ব্যক্তিরা কি আমাদের দু’আ বা ডাক শুনেন?
উত্তরঃ মৃত ব্যক্তিরা আমাদের দু’আ বা ডাক শুনতে পারে না।
কোরআন হতে দলীলঃ

{ إِنَّكَ لَا تُسْمِعُ الْمَوْتَى وَلَا تُسْمِعُ الصُّمَّ الدُّعَاءَ} (النمل: 80)

‘‘আপনি মৃতদেরকে এবং বধিরকেও আহবান শোনাতে পারবেন না।’’ (সূরা নামলঃ ৮০)

{وَمَا أَنْتَ بِمُسْمِعٍ مَنْ فِي الْقُبُورِ} (فاطر:22)

‘‘আপনি কবরে শায়িতদেরকে শুনাতে সক্ষম নন।’’ (সূরা ফাতির ৮০)
হাদীস হতে দলীলঃ

«إِنَّ لِلَّهِ مَلَائِكَةً سَيَّاحِينَ فِي الْأَرْضِ يُبَلِّغُونِي مِنْ أُمَّتِي السَّلَامَ» (رواه ابو داود والترمذي وأحمد)

‘জমিনে আল্লাহর কিছু ভ্রাম্যমান ফিরেস্তা রয়েছেন যাঁরা আমার নিকট আমার উম্মতের সালাম পৌঁছিয়ে থাকেন।’ (সূনানে আবু দাউদ, তিরমিযী ও মুসনাদে আহমাদ)

 

২০. প্রশ্নঃ আমরা কি মৃত ব্যক্তি কিংবা (দূরে অবস্থিত) অদৃশ্য অলীর নিকট বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য সাহায্য চাইতে পারি?
উত্তরঃ না, তাদের নিকট সাহায্য কামনা করা বৈধ নয়, বরং সরাসরি আল্লাহর নিকট সাহায্য চাইতে হবে।
কোরআন হতে দলীলঃ

{إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ} (الأنفال:9)

‘‘স্বরণ কর ! যখন তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছিলে তখন তিনি তোমাদেরকে জবাব দিলেন।’’ (সূরা নামলঃ ৮০)
হাদীস হতে দলীলঃ

أَنَّ النَّبِىَّ -صلى الله عليه وسلم- إِذَا كَرَبَهُ أَمْرٌ قَالَ: «يَا حَىُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ» (رواه الترمذي)

‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যখন কোন বিপদ ও চিন্তায় আক্রান্ত করতো তখন তিনি বলতেনঃ (ইয়া হাইয়ু ইয়া ক্বাইয়ুমু বিরহমাতিকা আসতাগীছ) হে চিরঞ্জীন ও সর্বনিয়ন্তা আপনার করুণার অসীলায় সাহায্য প্রার্থনা করছি।’ (সূনানে তিরমিযী)

২১. প্রশ্নঃ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট সাহায্য চাওয়া যায়েজ হবে কি?

উত্তরঃ আল্লাহ ব্যতীত আর কারো নিকট সাহায্য চাওয়া যাবেনা।
কোরআন হতে দলীলঃ

{إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} (الفاتحة:5)

‘‘আমরা আপনারই ইবাদাত করি এবং আপনারই নিকট সাহায্য কামনা করি।’’ (সূরা ফাতিহাঃ ৫)
হাদীস হতে দলীলঃ

«إِذَا سَأَلْتَ فَاسْأَلِ اللَّهَ وَإِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ»(رواه الترمذي)

‘যখন চাইবে, তখন আল্লাহর কাছেই চাইবে, যখন সাহায্য কামনা করবে তখন আল্লাহর নিকটই কামনা করবে।’ (সূনানে তিরমিযী)

 

২২. প্রশ্নঃ আমরা কি উপস্থিত জীবিত ব্যক্তির নিকট সাহায্য চাইতে বা নিতে পারি?

উত্তরঃ হাঁ, শুধু ঐসব ব্যাপারে সাহায্য চাইতে বা নিতে পারব যেসব ব্যাপারে তারা সাহায্য করতে সক্ষম।
কোরআন হতে দলীলঃ

{وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ} (المائدة:2)

‘‘তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহ ভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না।’’ (সূরা মায়েদাহঃ ২)
হাদীস হতে দলীলঃ

«وَاللَّهُ فِى عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِى عَوْنِ أَخِيهِ»(رواه مسلم)

‘বান্দা যতক্ষণ তাঁর (মুসলিম) ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে আল্লাহও ততক্ষণ তাকে সহযোগিতা করতে থাকেন।’ (সহীহ মুসলিম)

 

২৩. প্রশ্নঃ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে মান্নত করা যাবে কি?

উত্তরঃ না, আল্লাহ ব্যতীত আর কারো নামে মান্নত করা যাবে না।
কোরআন হতে দলীলঃ

{رَبِّ إِنِّي نَذَرْتُ لَكَ مَا فِي بَطْنِي مُحَرَّرًا فَتَقَبَّلْ مِنِّي} (آل عمران:35)

‘‘হে আমার পালনকর্তা! তোমার উদ্দেশ্যে নযর মানলাম আমার গর্ভস্থ সন্তান, অতএব আমার এই নযর তুমি কবুল কর।’’ (সূরা আলে ইমরানঃ ৩৫)
হাদীস হতে দলীলঃ

«مَنْ نَذَرَ أَنْ يُطِيعَ اللَّهَ فَلْيُطِعْهُ، وَمَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَهُ فَلاَ يَعْصِهِ»(رواه البخاري)

‘কেউ যদি আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোন ইবাদাত করার নযর মেনে থাকে সে যেন উহা পূরণ করে, আর যদি অবাধ্যতা মূলক কাজের নযর মানে সে যেন উহা পূরণ না করে।’ (সহীহ বুখারী)

 

২৪. প্রশ্নঃ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে পশু জবাই করা যাবে কি?

উত্তরঃ না, তা যায়েজ নয়, কেননা উহা বড় শির্ক। যার কারণে একজন মু’মিন মুশরিক হয়ে যায় বা দ্বীন থেকে বাহির হয়ে যায়।
কোরআন হতে দলীলঃ

{فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} (الكوثر:2)

‘‘অতএব আপনার প্রভূর উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন ও কুরবানী করুন (অর্থাৎ পশু জবাই করুন)।’’ (সূরা কাউসারঃ ২)
হাদীস হতে দলীলঃ

«لَعَنَ اللَّهُ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللَّهِ»(رواه مسلم)

‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে পশু জবাই করে তার উপর আল্লাহ লানত বা অভিশম্পাত করেছেন।’ (মুসলিম)

 

২৫. প্রশ্নঃ কবর ত্বওয়াফ করা জায়েয হবে কি?

উত্তরঃ না, কা’বা ছাড়া আর কোথাও ত্বওয়াফ করা জায়েয নয়।
কোরআন হতে দলীলঃ

{وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ} (الحج:29)

‘‘আর তারা যেন সম্মানিত ঘরের (কা’বার) ত্বওয়াফ করে।’’ (সূরা হজ্জঃ ২৯)
হাদীস হতে দলীলঃ

«مَنْ طاَفَ بِالْبَيْتِ سَبْعاً وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَانَ كَعِتْقِ رَقَبَةٍ» (رواه ابن ماجه)

‘যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহর সাত ত্বওয়াফ পূর্ণ করবে এবং দু-রাকাত সালাত আদায় করবে সে একজন দাস স্বাধীন করার সওয়াব পাবে।’ (সূনানে ইবনে মাজাহ)

আবদুল্লাহিল হাদী বিন আবদুল জলীল

Share This Post