কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।। সম্মানিত ভিজিটর যেকোন প্রকারের যোগাযোগের জন্য অনুগ্রহ করে "Contact Menu" অথবা "Facebook Chat" বাটন ব্যবহার করুন।।

তাশাহহুদে আঙুল নাড়ানোর হাদীস কী শায?

মূলঃ আব্দুল্লাহ মাহমূদ বিন শামসুল হক্ব

ভাষাগত সম্পাদনাঃ মুহাম্মাদ মাহিন আলম

সাহাবী ওয়ায়েল বিন হুজর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

قلت لأنظرن إلى صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم كيف يصلي، فنظرت إليه فقام فكبر، ورفع يديه حتى حاذتا بأذنيه، ثم وضع يده اليمنى على كفه اليسرى والرسغ والساعد، فلما أراد أن يركع رفع يديه مثلها قال: ووضع يديه على ركبتيه، ثم لما رفع رأسه رفع يديه مثلها، ثم سجد فجعل كفيه بحذاء أذنيه، ثم قعد وافترش رجله اليسرى، ووضع كفه اليسرى على فخذه وركبته اليسرى، وجعل حد مرفقه الأيمن على فخذه اليمنى، ثم قبض اثنتين من أصابعه وحلق حلقة، ثم رفع إصبعه فرأيته يحركها يدعو بها

আমি বললাম: আমি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের প্রতি, তিনি কিরূপে সালাত আদায় করেন। আমি তাঁর দিকে তাকালাম। তিনি দাঁড়িয়ে তাকবীর বললেন এবং তাঁর হস্তদ্বয় উত্তলোন করলেন। আর হস্তদ্বয় কর্ণদ্বয়ের বরাবর হল। তারপর তিনি তাঁর ডান হাত রাখলেন বাম হাতের উপর অর্থাৎ এক কব্জি অন্য কব্জির ওপর কিংবা এক হাত অন্য হাতের উপর রাখলেন। যখন তিনি রুকু করার ইচ্ছা করলেন হস্তদ্বয় পূর্বের মত উঠালেন। রাবী বলেন, তিনি হস্তদ্বয় স্হাপন করলেন তাঁর দু’হাঁটুর উপর। এরপর যখন তিনি রুকু থেকে মাথা উঠালেন তখন তদ্রুপ হাত উঠালেন। এরপর তিনি সিজদা করলেন, তিনি তাঁর হাতের তালু-দ্বয় স্হাপন করলেন তাঁর উভয় কান বরাবর। তারপর তিনি বসলেন, তিনি বিছিয়ে দিলেন তাঁর বাম পা। আর তাঁর বাম হাতের তালু রাখলেন তার বাম পায়ের ও রানের উপর। আর ডান কনূইর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ডান রানের উপর রাখলেন। পরে তাঁর দুটি আঙুল (বৃদ্ধ ও মধ্যমা) টেনে তা দিয়ে বৃত্তাকার বানালেন এবং তারপর একটি আঙুল (তর্জনী) উঠালেন। আমি দেখলামতিনি তানাড়াচ্ছেন এবং তা দ্বারা দু’আ করছেন (এ হাদীস অনেক গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। যেমন, মুসনাদে আহমাদ, ১৮৮৭৫; দারেমী, ১৩৫৭; বুখারী, রফঊল ইয়াদাইন, ৩১; আবূ দাউদ, ৭২৭; ইবনুল জারূদ, ২০৮; নাসায়ী, আল-মুজতবা, ২/১২৬-১২৭; কুবরা ১১৯১; ইবনু খুযাইমাহ, ৪৮০, ৭১৪; ইবনু হিব্বান, ১৮৬০; তবারানী, ২২/৮২; বাইহাকী, ২/২৭-২৮, ১৩২; শাইখ শুয়াইব আরনাউতের তাখরীজ অনুযায়ী)

উল্লেখিত হাদীসের “فرأيته يحركها يدعو بها   বা “দেখলাম, তিনি তা নাড়াচ্ছেন এবং তা দ্বারা দু’আ করছেন।”- অংশকে কেউ কেউ “শায” বলেছেন। তাদের “শায” বলার কারণ হচ্ছে যে, এ হাদীস আসেম বিন কুলাইব থেকে অনেকেই বর্ণনা করেছেন কিন্তু আসেম বিন কুলাইব থেকে শুধুমাত্র “যায়েদাহ বিন কুদামাহ” উল্লেখিত অংশ বর্ণনা করেছেন। তার বিপরীতে আব্দুল ওয়াহেদ বিন যিয়াদ, শু’বা, সুফয়ান সাওরী, সুফয়ান বিন উয়াইনাহ, যুহায়ের বিন মুয়াবিয়া, বিশর বিন মুফাযযাল, সালাম বিন সুলাইম আবূল আহওয়াস, আব্দুল্লাহ বিন ইদরীস, কাইস বিন রবী’, আবূ আওয়ানাহ ও খালেদ বিন আব্দুল্লাহ ওয়াসেতী উক্ত অংশ বর্ণনা করেননি। তারা শুধুমাত্র “আঙুল ইশারা” করার কথা বলেছেন, “নাড়ানো”র কথা বলেননি।

আমরা মুহাদ্দিসগণের নীতি অনুযায়ী পর্যালোচনা করে দেখব যে, উক্ত অংশ কি আসলেই “শায” নাকি “যিয়াদাতুস সিক্বাহ বা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বর্ধিতাংশ”?

 

 

“শায”-এর পরিচয়:

“শায”-এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে:

ما رواه الثقة مخالفا لمن هو أرجح منه.

“সিক্বাহ বা নির্ভরযোগ্য রাবী তার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীতে যা বর্ণনা করেন”। (শারহুল মানযূমাতিল বায়কূনিয়াহ, পৃষ্ঠা, ৯২, এছাড়া মুস্তালাহুল হাদীসের আরো অন্যান্য গ্রন্থ দ্রষ্টব্য)

তবে হাফেয ইবনু হাজার আসকালানী রাহিমাহুল্লাহ্ যে সংজ্ঞা দিয়েছেন তা সবচে’ উত্তম ও অগ্রাধিকারযোগ্য। তিনি বলেন,

ما رواه المقبول مخالفا لما هو أولى منه

“মাকবূল বা গ্রহণযোগ্য রাবী তার চেয়ে উত্তম রাবীর বিপরীতে যা বর্ণনা করেন”।(নুযহাতুল নাযর, পৃষ্ঠা, ৭২, নূরুদ্দীন ইতর-এর তাহকীকে)

 

 

“যিয়াদাতুস সিক্বাহ বা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বর্ধিতাংশ”- এর পরিচয়:

হাফেয ইবনু কাসীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন,

إذا تفرد الراوي بزيادة في الحديث عن بقية شيخ لهم، وهذا الذي يعبر عنه بزيادة الثقة،

যখন একজন রাবী হাদীসের একটি অতিরিক্ত অংশ তাদের শিক্ষকের অন্যান্য ছাত্র ছাড়াই একাই বর্ণনা করবেন। এ অংশকে “যিয়াদাতুস সিক্বাহ বা নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ধিতাংশ” বলা হয়। ( ইখতিসারু উলূমিল হাদীস, পৃষ্ঠা, ৬১)

এখন প্রশ্ন হতে পারে যায়েদাহ বিন কুদামাহর উল্লেখিত বর্ধিতাংশ “শায” হিসাবে গণ্য করব, নাকি “যিয়াদাতুস সিক্বাহ” হিসাবে? আমরা তার জবাব ইবনু হাজার আসকালানী রাহিমাহুল্লাহ- এর বক্তব্যে পাই। তিনি বলেন,

ما تفرد بعض الرواة بزيادة فيه دون من هو أكثر عددا أو أضبط ممن لم يذكرها فهذا لا يؤثر التعليل به إلا إن كانت الزيادة منافية بحيث يتعذر الجمع إما إن كانت الزيادة لا منافاة فيها بحيث تكون كالحديث المستقل

যদি কোন রাবী একাই কিছু অতিরিক্ত অংশ উল্লেখ করে আর তার বিপরীতে অধিক সংখ্যক রাবী বা তার চেয়ে অধিক সংরক্ষণকারী রাবী তা উল্লেখ না করে, তবে তা দোষ হিসাবে প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু বর্ধিতাংশ যদি এমন বিপরীতমুখী হয় যে, সমন্বয়সাধন করা অসম্ভব, তবে প্রভাব ফেলবে। আর যদি বিপরীতমুখী না হয়, তখন তা স্বতন্ত্র হাদীসের মত হবে। (মুকাদ্দামাতু ফাতহিল বারী, ১/৩৪৭)

ইবনু হাজার আসকালানী রাহি.-এর বক্তব্য অনুযায়ী “আঙুল নাড়ানো” বর্ধিতাংশ “যিয়াদাতুস সিক্বাহ” – এর অন্তর্ভুক্ত, “শায” নয়। কারণ, যারা হাদীসে আঙুল নাড়ানোর কথা উল্লেখ করেননি আর যিনি উল্লেখ করেছেন, তাদের মাঝে কোন বৈপরীত্য নেই। আমরা পরবর্তীতে হাদীসের আলোকে দেখতে পাব যে, আঙুল ইশারা করা এবং আঙুল নাড়ানো মধ্যে কোন বৈপরীত্য নেই; বরং কোন কোন হাদীস থেকে বুঝা যায়, আঙুল নাড়ানো আঙুল ইশারা করার অন্তর্ভুক্ত।

 

 

“যিয়াদাতুস সিক্বাহ বা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বর্ধিতাংশ”- এর হুকুম:

“যিয়াদাতুস সিক্বাহ বা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বর্ধিতাংশ”-এর ব্যাপারে কয়েকটি মত রয়েছে। তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ মত হল চারটি:

 

১) তা মুতলাকভাবে গ্রহণযোগ্য।

এ মতের পক্ষে রয়েছেন হাকেম, খতীব বাগদাদী, নববী, ইবনু আব্দিল বার, ইবনু হিব্বান, ইবনে হাযম রাহিমাহুমুল্লাহ প্রমুখগণ। (দেখুন, মুস্তাদরাক হাকেম, ১/৪২; কিফায়াহ, ৪৫০; শারহু সহীহ মুসলিম, ৩/১৭; আত-তামহীদ, ১৫/৩২৬)

 

২) মুতলাকভাবে অগ্রহণযোগ্য।

আলূসী রাহিমাহুল্লাহ- এর বর্ণনানুযায়ী এর পক্ষে মত দিয়েছেন কিছু মুহাদ্দিস, কিছু হানাফী ও আবূ বাকর আবহারী। (ঈকদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসার নুখবাতিল ফিকর, পৃষ্ঠা, ২০৩)

 

৩) তা মুতলাকভাবে অগ্রহণযোগ্য নয় আবার মুতলাকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়; বরং তা তিন প্রকার:

ক) বর্ধিতাংশ অন্যান্য রাবীদের বিপরীতে হবে। এরূপ হলে, তা “শায” হিসেবে অগ্রহণযোগ্য হবে।

খ) বর্ধিতাংশ অন্যান্য রাবীদের বিপরীতে হবে না। এরূপ হলে, তা গ্রহণযোগ্য।

গ) উভয় প্রকারের মাঝামাঝি।

(ইবনুস সলাহ, উলূমুল হাদীস, পৃষ্ঠা, ৮৬)

 

৪) তা বিভিন্ন ইশারা-ইঙ্গিতের আলোকে সঠিক বলে প্রমাণিত হলে গ্রহণযোগ্য আর ভুল প্রমাণিত হলে অগ্রহণযোগ্য।

এ মতের পক্ষে রয়েছেন, ইমাম শাফেয়ী, ইবনু মাহদী, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ কত্তান, আহমাদ বিন হাম্বাল, ইবনু মাঈন, ইবনুল মাদীনী, বুখারী, আবূ যুর’আহ, আবূ হাতিম, নাসায়ী, তিরমিযী, দারাকুত্বনী, খালীলী, ইবনু দাক্বীক্বিল ঈদ, ইবনু আব্দিল হাদী, যাহাবী, ইবনুল কাইয়িম, ইবনুল ওয়াযীর, ইবনু হাজার আসকালানী রাহিমাহুমুল্লাহ প্রমুখগণ। (আর-রিসালাহ,১/৪৬৩; আস-সারিমুল মুনকী, ১০৯; তাদরীবুর রাবী, ১/২০৫; নাযমুল ফারায়িদ লিমা তাযাম্মানাহু হাদীসু যিল ইয়াদাইন মিনাল ফাওয়ায়িদ, ২০৯; শারহুল ইলমাম, ৬০-৬১; আল-মূকিযাহ, ৫২; আল-ফুরূসিয়াহ, ২৮২; তাওযীহুল আফকার,১/৩১২; আন-নুকাত, ২/৬৮৭, ইত্যাদি )

 

উল্লেখিত চার মতের আলোকে “আঙুল নাড়ানো” বর্ধিতাংশের বিশ্লেষণ:

১) প্রথম মত তথা যারা বলেছেন, “মুতলাকভাবে গ্রহণযোগ্য”, তাদের মতের আলোকে “আঙুল নাড়ানো” অংশ গ্রহণযোগ্য। কারণ, তারা তা গ্রহণের ব্যাপারে কোন শর্তারোপ করেননি।

২) দ্বিতীয় মত তথা যারা বলেছেন, “মুতলাকভাবে অগ্রহণযোগ্য”, মূলত তাদের এ মত অগ্রহণযোগ্য। কারণ, “যিয়াদাতুস সিক্বাহ” মুতলাকভাবে গ্রহণ না করা হলে অসংখ্য হাদীসকে বাতিল বলতে হবে। অথচ মুসলিম উম্মাহ সে-সব হাদীস গ্রহণ করে নিয়েছেন। তাছাড়া এর মাধ্যমে মুস্তলাহুল হাদীসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় “যিয়াদাতুস সিক্বাহ”কে নাকচ ও বাতিল করা হচ্ছে।

৩) তৃতীয় মত তথা যারা বলেছেন, অন্যান্যদের সাথে বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হলে অগ্রহণযোগ্য আর বৈপরীত্য পরিলক্ষিত না হলে গ্রহণযোগ্য।

এ মতের আলোকেও “আঙুল নাড়ানো” বর্ধিতাংশ গ্রহণযোগ্য। কারণ, যারা “আঙুল নাড়ানো”র কথা উল্লেখ করেছেন আর যিনি উল্লেখ করেননি, তাদের মধ্যে কোন প্রকার বৈপরীত্য নেই; যা আমরা কিছুক্ষণ পরে দেখতে পাব, ইনশা-আল্লাহ।

৪) চতুর্থ মত তথা যারা বলেছেন, “বিভিন্ন ইশারা-ইঙ্গিতের আলোকে বর্ধিতাংশ সঠিক প্রমাণিত হলে গ্রহণযোগ্য আর ভুল প্রমাণিত হলে অগ্রহণযোগ্য।”- তাদের মতের আলোকেও “আঙুল নাড়ানো” অংশ গ্রহণযোগ্য। কারণ, বিভিন্ন ইশারা-ইঙ্গিত প্রমাণ করে যে, এ বর্ধিতাংশ সঠিক, রাবী কর্তৃক ভুল নয়।

বর্ধিতাংশ সঠিক, না ভুল- তা চিহ্নিত করতে মুহাদ্দিসগণ অনেক ইশারা-ইঙ্গিত ব্যবহার করতেন। নিম্নে আমরা কিছু ইশারা-ইঙ্গিত তুলে ধরলাম। যার আলোকে প্রমাণিত হয় “আঙুল নাড়ানো” অংশ “শায” অথবা ভুল নয়; বরং যিয়াদাতুস সিক্বাহ-এর অন্তর্ভুক্ত। আর যিয়াদাতুস সিক্বাহ মাকবূল বা গ্রহণযোগ্য।

 

 

১ নং ইশারা: বর্ধিতাংশ অন্যান্যদের বর্ণনার বিপরীতে না হওয়া এবং সমন্বয়সাধন দুষ্কর না হওয়া।
ইবনু হাজার আসকালানী রাহি. বলেন,

ولا يخفى فساد هذه الدعوى فقتادة حافظ زيادته مقبولة لأن غيره لم يتعرض لنفيها فلم يتعارضا

এ দাবি বাতিল হওয়ার ব্যাপারটা গোপন নেই। কারণ, কাতাদাহ হাফেয। আর তার বর্ধিতাংশ মাকবূল। কেননা, অন্যান্যগণ তার বর্ণনাকে নাকচ করে দেয়নি। তাই উভয়ের মধ্যে কোন বৈপরীত্য নেই। (ফাতহুল বারী, ১২/২০০)
তিনি অন্যত্র বলেন,

وليس في رواية مالك ومن تابعه ما ينفي الزيادة المذكورة فلا توصف والحالة هذه بالشذوذ

মালেক ও তার মুতাবে’ বর্ণনায় এমন কিছু নেই যা উল্লেখিত বর্ধিতাংশকে নাকচ করে। অতএব, এ অবস্থায় একে “শায” আখ্যা দেওয়া যাবে না। (প্রাগুক্ত, ২/৬)

ইবনুস সলাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন,

الثاني: أن لا تكون فيه منافاة ومخالفة أصلا لما رواه غيره كالحديث الذي تفرد برواية جملته ثقة، ولا تعرض فيه لما رواه الغير بمخالفة أصلا، فهذا مقبول، وقد ادعى الخطيب فيه اتفاق العلماء عليه،

তা (বর্ধিতাংশ) অন্যদের বর্ণনার মোটেই বিরোধী ও বিপরীতে হবে না। এর হুকুম হবে এমন হাদীসের মত যা শুধুমাত্র সিক্বাহ রাবী বর্ণনা করেছেন। তাতে অন্যদের বর্ণনার বিরোধী কিছুই থাকবে না। এ ধরণের বর্ধিতাংশ গ্রহণযোগ্য। খতীব বাগদাদী এ ব্যাপারে আলেমদের ইজমার দাবি করেছেন। (উলূমুল হাদীস, পৃষ্ঠা ৮৬, নূরুদ্দীন ইতর-এর তাহকীকে)

আলোচিত হাদীসে যারা “আঙুল নাড়ানো” ছাড়াই শুধুমাত্র ইশারার কথা বলেছেন আর যিনি (যায়েদাহ বিন কুদামাহ) “আঙুল নাড়ানো”র কথা বলেছেন, তাদের মধ্যে কোন বৈপরীত্য নেই। কারণ, কখনো কখনো আঙুল ইশারা করা দ্বারা “আঙুল নাড়ানো” বুঝায়।

যেমন, কেউ যদি বলে- অমুক ব্যক্তি দূরের এক ব্যক্তিকে আঙুল ইশারা দ্বারা কাছে আসতে বলল, অথবা যদি বলে- অমুক ব্যক্তি তাদেরকে আঙুল ইশারা দ্বারা বসতে বলল। এ কথা দ্বারা অবশ্যই বুঝা যায় যে, সে ব্যক্তি আঙুল ইশারার সঙ্গে সঙ্গে আঙুল নাড়িয়েছে।
বিভিন্ন হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, আঙুল ইশারা দ্বারা আঙুল নাড়ানোকেও বুঝায়। যেমন,

 

১)

حذيفة، قال: «رأيتني أنا والنبي صلى الله عليه وسلم نتماشى، فأتى سباطة قوم خلف حائط، فقام كما يقوم أحدكم، فبال، فانتبذت منه، فأشار إلي فجئته، فقمت عند عقبه حتى فرغ

হুযাইফাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমার স্মরণ আছে যে, একদা আমি ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সাথে চলছিলাম। তিনি দেয়ালের পিছনে মহল্লার একটি আবর্জনা ফেলার জায়গায় এলেন। অতঃপর তোমাদের কেউ যেভাবে দাঁড়ায় সে ভাবে দাঁড়িয়ে তিনি পেশাব করলেন। এ সময় আমি তাঁর নিকট হতে সরে যাচ্ছিলাম কিন্তু তিনি আমাকে ইশারা করলেন। আমি এসে তাঁর পেশাব করা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে রইলাম। (সহীহ বুখারী, ২২৫)

 

২)

فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم والناس في الصلاة، فتخلص حتى وقف في الصف، فصفق الناس وكان أبو بكر لا يلتفت في صلاته، فلما أكثر الناس التصفيق التفت، فرأى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأشار إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم: أن امكث مكانك

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং তিনি সারিগুলো ভেদ করে প্রথম সারিতে গিয়ে দাঁড়ালেন। তখন সাহাবীগণ হাতে তালি দিতে লাগলেন। আবূ বাকর (রাযি.) সালাতে আর কোন দিকে তাকাতেন না। কিন্তু সাহাবীগণ যখন অধিক করে হাতে তালি দিতে লাগলেন, তখন তিনি তাকালেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখতে পেলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতি ইশারা করলেন- নিজের জায়গায় থাক। (সহীহ বুখারী, ৬৮৪)

অন্য বর্ণনায় আছে,

فأشار إليه يأمره أن يصلي

তিনি তাঁকে ইশারা করে সালাত পড়াতে আদেশ দিলেন। ( সহীহ বুখারী, ১২১৮, ১২৩৪)

আরেক বর্ণনায় আছে,

فأومأ إليه النبي صلى اللّٰه عليه وسلم أن أمضه- وأومأ بيده هكذا-

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দিকে ইঙ্গিত করলেন যে, তুমি তা অব্যাহত রাখ – তিনি তাঁর হাত দিয়ে এভাবে ইঙ্গিত করলেন-। ( সহীহ বুখারী, ৭১৯০)

 

৩)

عن أسماء، قالت: أتيت عائشة وهي تصلي فقلت: ما شأن الناس؟ فأشارت إلى السماء، فإذا الناس قيام، فقالت: سبحان الله، قلت: آية؟ فأشارت برأسها: أي نعم،

আসমা (রাযি.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ (রাযি.)-র নিকট আসলাম, তিনি তখন সালাতরত ছিলেন। আমি বললাম, ‘মানুষের কী হয়েছে?’ তিনি আকাশের দিকে ইশারা করলেন (সূর্য গ্রহণ লেগেছে)। তখন সকল লোক (সালাতুল কুসূফ এর জন্য) দাঁড়িয়ে রয়েছে। ‘আয়িশাহ (রাযি.) বললেন, সুবহানাল্লাহ! আমি বললাম, এটা কি কোন নিদর্শন ? তিনি মাথা দিয়ে ইশারা করলেন, ‘হ্যাঁ।’ ( সহীহ বুখারী, ৮৬, ১৮৪)

 

৪)

عبد الله بن مسعود، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا يمنعن أحدكم – أو أحدا منكم – أذان بلال من سحوره، فإنه يؤذن – أو ينادي بليل – ليرجع قائمكم، ولينبه نائمكم، وليس أن يقول الفجر – أو الصبح -» وقال بأصابعه ورفعها إلى فوق وطأطأ إلى أسفل حتى يقول هكذا

‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ বিলালের আযান যেন তোমাদের কাউকে সাহরী খাওয়া হতে বিরত না রাখে। কেননা, সে রাত থাকতে আযান দেয়- যেন তোমাদের মধ্যে যারা তাহাজ্জুদের সালাতেরত তারা ফিরে যায় আর যারা ঘুমন্ত তাদেরকে জাগিয়ে দেয়। অতঃপর তিনি বললেনঃ ফজর বা সুবহে সাদিক বলা যায় না- তিনি একবার আঙুল উপরের দিকে উঠিয়ে নীচের দিকে নামিয়ে ইশারা করে বললেন, যতক্ষণ না এরূপ হয়ে যায়। (সহীহ বুখারী, ৬২১)

 

৫)

عن عائشة أم المؤمنين، أنها قالت: صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم في بيته وهو شاك، فصلى جالسا وصلى وراءه قوم قياما، فأشار إليهم أن اجلسوا،

উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার অসুস্থ থাকার কারণে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজগৃহে সালাত আদায় করেন এবং বসে সালাত আদায় করছিলেন, একদল সাহাবী তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন। তিনি তাদের প্রতি ইঙ্গিত করলেন যে, বসে যাও। (সহীহ বুখারী, ৬৮৮)

এসব হাদীস প্রমাণ করে যে, অঙ্গ ইশারা করা দ্বারা নাড়ানোকেও বুঝায়। অতএব, ইশারা করা ও নাড়ানোর মধ্যে কোন বৈপরীত্য নেই। তাই “যায়েদাহ বিন কুদামাহ”-এর “আঙুল নাড়ানো” অংশ গ্রহণযোগ্য।

 

 

২ নং ইশারা: বৃদ্ধিকারীর “হাফেয” ও “মুতকিন” হওয়া।

 

আবূ যুর’আহ রাযী বলেন,

إذا زاد حافظ على حافظ قبل،

কোন হাফেয যদি অন্য কোন হাফেযের উপর বৃদ্ধি করে, তবে তা গ্রহণযোগ্য। (ঈলালুল হাদীস লি-ইবনে আবী হাতিম, ৩/৩৮৪)

দারাকুত্বনী বলেন,

أو ما جاء بلفظة زائدة، فتقبل تلك الزيادة من متقن، ويحكم لأكثرهم حفظا وثبتا على من دونه

কোন রাবী যদি বর্ধিতাংশ বর্ণনা করে, তবে “মুতকিন”-এর উক্ত বর্ধিতাংশ গ্রহণযোগ্য। যে বেশি হাফেয ও প্রমাণিত তার বর্ণনা গ্রহণযোগ্য যে তার চেয়ে কম তার বিপরীতে। (ইবনু হাজার, আন-নুকাত, ২/৬৮৯; যারকাশী, আন-নুকাত, ২/১৮০)

যাইলাঈ হানাফী বলেন,

فتقبل إذا كان الراوي الذي رواها ثقة حافظا ثبتا، والذي لم يذكرها مثله، أو دونه في الثقة، كما قبل الناس زيادة مالك بن أنس، قوله: من المسلمين في صدقة الفطر، واحتج بها أكثر العلماء،

যদি বৃদ্ধিকারী রাবী সিক্বাহ, হাফেয ও সাবত হয় আর যিনি বৃদ্ধি করেননি তিনি নির্ভরযোগ্যতার দিকে দিয়ে তার সমপর্যায়ের হয় বা তার চেয়ে নিচু হয়, তবে বর্ধিতাংশ গ্রহণযোগ্য। যেমন, ইমাম মালেকের من المسلمين في صدقة الفطر  (মুসলিমদের পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর দিতে হবে) বর্ধিতাংশ মানুষেরা গ্রহণ করেছেন এবং তার দ্বারা অধিকাংশ আলেম দলীল পেশ করেছেন। (নাসবুর রা’য়াহ, ১/৩৩৬)

“আঙুল নাড়াতেন” বর্ধিতাংশের বর্ণনাকারী হচ্ছেন, “যায়েদাহ বিন কুদামাহ”। তার সম্পর্কে কিছু মুহাদ্দিসের মন্তব্য নিম্নরূপ:

 

আহমাদ বিন হাম্বাল বলেন,

المتثبتون في الحديث أربعة: سفيان وشعبة وزهير وزائدة

হাদীসে সুপ্রতিষ্ঠিত (সাবত) চারজন: সুফয়ান, শু’বা, যুহায়ের ও যায়েদাহ বিন কুদামাহ (তাহযীবুত তাহযীব, ৩/৩০৬, জীবনী নং ৫৭১)

তিনি আরো বলেন,

إذا سمعت الحديث عن زائدة وزهير فلا تبالي إن لا تسمعه عن غيرهما إلا حديث أبي إسحاق

যদি তুমি যায়েদাহ ও যুহায়ের থেকে কোন হাদীস শুনে ফেল, আর উক্ত হাদীসটি যদিও অন্য কারো থেকে না শুনো, তবে তাতে সমস্যা মনে কর না, কিন্তু আবূ ইসহাকের হাদীস ছাড়া। (প্রাগুক্ত)

 

ইবনু হিব্বান বলেন,

كان من الحفاظ المتقنين لا يعد سماع حتى يسمعه ثلاث مرات

তিনি হাফেয ও মুতকিন ছিলেন। তিনি (হাদীস) তিনবার না শুনা পর্যন্ত, তা শ্রবণ হিসাবে গণ্য করতেন না। (আস-সিকাত, ৬/৩৪০)

 

দারাকুত্বনী বলেন,

من الأثبات الأئمة  তিনি সুপ্রতিষ্ঠিত (সাবত) ইমামদের একজন।(তাহযীবুত তাহযীব, ৩/৩০৬, জীবনী নং ৫৭১)

যুহালী বলেন,

তিনি সিক্বাহ ও হাফেয। (প্রাগুক্ত)

 

ইবনু সা’দ বলেন,

তিনি সিক্বাহ ও বিশ্বস্ত ছিলেন। (তবকাত, ৬/৩৭৮)

 

আবূ উসামাহ বলেন,

كان من أصدق الناس وأبرهم

তিনি মানুষের মধ্যে সবচে’ সত্যবাদী ও উত্তম ছিলেন। (তাযকিরাতুল হুফফায, ১/ ১৫৯)

 

ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল বলেন,

كان وكيع لا يقدم على زائدة في الحفظ أحدا،

ওয়াকি’ হিফযের দিক থেকে যায়েদাহর উপর কাউকে প্রাধান্য দিতেন না।(প্রাগুক্ত)

 

যাহাবী বলেন,

তিনি হলেন ইমাম, হাফেয, সাবত, সিকাহ, হুজ্জাহ সুন্নাহপন্থী ও সংরক্ষণের দিকে থেকে শু’বার মত।( সিয়ার,৭/৩৭৫; কাশেফ, ১/২৪৭; তাযকিরাতুল হুফফায,১/১৫৯)

 

ইবনু হাজার আসকালানী বলেন,

তিনি সিক্বাহ, সাবত ও সুন্নাহপন্থী। (তাকরীব, ৩৩৩)

 

মুহাদ্দিসগণের মন্তব্য থেকে প্রমাণিত হল, যায়েদাহ বিন কুদামাহ একজন বড় মাপের হাফেয, সাবত, সিক্বাহ ও মুতকিন। অতএব, তার বর্ধিতাংশ নিঃসন্দেহে গ্রহণযোগ্য।

 

 

৩ নং ইশারা: হাদীস পাঠদানের মজলিস ভিন্ন-ভিন্ন হওয়া।

 

ইবনু রজব হাম্বালী উল্লেখ করেন,

إن تعدد المجلس الذي نقل فيه الحديث قبلت الزيادة.

যে মজলিসে হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে, তা যদি একাধিক হয়, তবে বর্ধিতাংশ গ্রহণ করা হবে। (শারহু ইলালিত তিরমিযী, ২/৬৩৫)

 

যাফর আহমাদ থানভী দেওবন্দী বলেন,

والمختار عند ابن الساعاتي وغيره من الحنفية أنه إذا انفرد العدل بزيادة لا تخالف، كما لو نقل أنه صلى اللّٰه عليه وسلم “دخل البيت” فزاد: “فصلى”، فإن اختلف المجلس قبلت باتفاق.

ইবনু সা’আতী ও অন্যান্য হানাফীদের নিকটে পছন্দনীয় মত হচ্ছে যে, যদি আদেল রাবী বিরোধহীন বর্ধিতাংশ একাই বর্ণনা করে- যেমন, যদি বর্ণনা করা হয় যে, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাড়িতে প্রবেশ করেছেন” কিন্তু  সে যদি আরো বৃদ্ধি করে যে, “তারপরে সালাত আদায় করেছেন”- আর যদি (হাদীস পাঠদানের) মজলিস ভিন্ন-ভিন্ন হয়, তবে সবার ঐক্যমত্যে উক্ত বর্ধিতাংশ গ্রহণযোগ্য। (কাওয়ায়িদ ফী উলূমিল হাদীস, ১২৩)

আলোচিত হাদীসটি যায়েদাহ বিন কুদামাহসহ অন্যান্য রাবী এক মজলিসে শুনেননি; বরং ভিন্ন-ভিন্ন মজলিসে শুনেছেন। তার প্রমাণ হচ্ছে যে, হাদীসটি একেকজন একেক ভাবে বর্ণনা করেছেন। যদি মজলিস একটাই হত, তবে তাদের বর্ণনাভঙ্গির মধ্যে মিল থাকত, পার্থক্য থাকত না। তাদের ভিন্ন-ভিন্ন শব্দে বর্ণনা প্রমাণ করে যে, তারা তা ভিন্ন-ভিন্ন মজলিস থেকে শুনেছেন।

 

আমরা এখানে সে-সব রাবীদের বর্ণনা তুলে ধরলাম:

 

আব্দুল ওয়াহেদ বিন যিয়াদ-এর হাদীস: (মুসনাদ আহমাদ, ১৮৮৫০)

لأنظرن كيف يصلي، قال: ” فاستقبل القبلة، فكبر، ورفع يديه حتى كانتا حذو منكبيه “، قال: ” ثم أخذ شماله بيمينه “، قال: ” فلما أراد أن يركع رفع يديه حتى كانتا حذو منكبيه، فلما ركع وضع يديه على ركبتيه، فلما رفع رأسه من الركوع رفع يديه حتى كانتا حذو منكبيه، فلما سجد وضع يديه من وجهه، بذلك الموضع،

শু’বার হাদীস: (মুসনাদ আহমাদ, ১৮৮৫৫, ১৮৮৭৭)

صليت خلف رسول الله صلى الله عليه وسلم، فكبر حين دخل، ورفع يده، وحين أراد أن يركع، رفع يديه، وحين رفع رأسه من الركوع، رفع يديه، ووضع كفيه، وجافى وفرش فخذه اليسرى من اليمنى، وأشار بإصبعه السبابة

সুফয়ান সাওরীর হাদীস: (মুসনাদ আহমাদ, ১৮৮৫৮, ১৮৮৭১)

رأيت النبي صلى الله عليه وسلم كبر فرفع يديه حين كبر، يعني استفتح الصلاة، ورفع يديه حين كبر، ورفع يديه حين ركع، ورفع يديه حين قال: سمع الله لمن حمده، وسجد فوضع يديه حذو أذنيه، ثم جلس فافترش رجله اليسرى، ثم وضع يده اليسرى على ركبته اليسرى، ووضع ذراعه اليمنى على فخذه اليمنى، ثم أشار بسبابته، ووضع الإبهام على الوسطى، وقبض سائر أصابعه، ثم سجد، فكانت يداه حذاء أذنيه

যুহায়ের বিন মু’আবিয়ার হাদীস: (মুসনাদ আহমাদ, ১৮৮৭৬)

لأنظرن إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم كيف يصلي، ” فقام فرفع يديه حتى حاذتا أذنيه، ثم أخذ شماله بيمينه، ثم قال: حين أراد أن يركع، رفع يديه حتى حاذتا بأذنيه، ثم وضع يديه على ركبتيه، ثم رفع فرفع يديه مثل ذلك، ثم سجد فوضع يديه حذاء أذنيه، ثم قعد فافترش رجله اليسرى، ووضع كفه اليسرى على ركبته اليسرى، فخذه في صفة عاصم، ثم وضع حد مرفقه الأيمن على فخذه اليمنى، وقبض ثلاثين ، وحلق حلقة. ثم رأيته يقول هكذا، وأشار زهير بسبابته الأولى، وقبض إصبعين، وحلق الإبهام على السبابة الثانية “

বিশর বিন মুফাযযালের হাদীস: (নাসায়ী, ১২৬৫)

لأنظرن إلى صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم، كيف يصلي؟ «فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم فاستقبل القبلة، فرفع يديه حتى حاذتا أذنيه، ثم أخذ شماله بيمينه، فلما أراد أن يركع رفعهما مثل ذلك، ووضع يديه على ركبتيه، فلما رفع رأسه من الركوع رفعهما مثل ذلك، فلما سجد وضع رأسه بذلك المنزل من يديه، ثم جلس فافترش رجله اليسرى، ووضع يده اليسرى على فخذه اليسرى، وحد مرفقه الأيمن على فخذه اليمنى، وقبض ثنتين وحلق»، ورأيته يقول هكذا، وأشار بشر بالسبابة من اليمنى وحلق الإبهام والوسطى

আব্দুল্লাহ বিন ইদরীসের হাদীস: (ইবনু মাজাহ, ৯১২)

رأيت النبي – صلى الله عليه وسلم – قد حلق الإبهام والوسطى، ورفع التي تليهما، يدعو بها في التشهد

খালেদ বিন আব্দুল্লাহর হাদীস: (বাইহাকী, ২৭৮৪)

إلى الصلاة فكبر، ورفع يديه حتى حاذى بهما أذنيه، وأخذ شماله بيمينه، فلما أراد أن يركع رفع يديه، فلما رفع رأسه من الركوع رفع يديه، فلما سجد وضع يديه فسجد بينهما، ثم جلس فوضع يديه اليسرى على فخذه اليسرى، ومرفقه اليمنى على فخذه اليمنى، ثم عقد الخنصر والبنصر، ثم حلق الوسطى بالإبهام وأشار بالسبابة

কায়েস বিন রবী’-এর হাদীস: (মু’জামুল কাবীর লিত-তবরানী, ৭৯)

رأيت النبي صلى الله عليه وسلم افتتح الصلاة، وكبر ورفع يديه، ثم أخذ شماله بيمينه، فلما أراد أن يركع كبر فرفع يديه فوضع راحتيه على ركبتيه، وفرج بين أصابعه، فلما رفع رأسه كبر ورفع، فلما سجد وضع جبينه بين كفيه، ونصب أصابع رجليه، فلما رفع ثنى رجله اليسرى، ونصب أصابع رجله اليمنى، فلما جلس وضع كفه اليسرى على فخذه اليسرى ووضع مرفقه اليمنى على فخذه اليمنى، وعقد الخنصر والتي تليها، وحلق بالوسطى، والإبهام وأشار بالسبابة يدعو بها

আবূ আওয়ানাহ- এর হাদীস: (মু’জামুল কাবীর লিত-তবরানী, ৯০)

لأنظرن إلى صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم كيف يصلي، فقام فاستقبل القبلة فكبر ورفع يديه حتى حاذى بهما أذنيه، ثم قبض باليمنى على اليسرى، ثم ركع فرفع يديه فحاذى بهما أذنيه، ثم وضع كفيه على ركبتيه، ثم رفع رأسه ورفع يديه فحاذى بهما أذنيه، ثم سجد فوضع رأسه بين كفيه، ثم صلى ركعة أخرى مثلها، ثم جلس فافترش رجله اليسرى، ثم دعا ووضع كفه اليسرى على ركبته اليسرى، وكفه اليمنى على ركبته اليمنى، ودعا بالسباب

সালাম বিন সুলাইমের হাদীস: (মুসনাদ হুমাইদী, ১১১৩)

صليت خلف النبي صلى الله عليه وسلم فقلت: لأحفظن صلاته ” فافتتح الصلاة فكبر ورفع يديه حتى بلغ أذنيه، وأخذ شماله بيمينه فلما أراد أن يركع كبر ورفع يديه كما رفعهما حين افتتح الصلاة، ووضع كفيه على ركبتيه حين ركع، فلما رفع رأسه من الركوع رفع يديه كما رفعهما حين افتتح الصلاة، ثم سجد فافترش قدمه اليسرى فقعد عليها قال: ثم وضع كفه اليمنى على فخذه اليمنى ويده اليسرى على فخذه اليسرى وجعل يدعو هكذا يعني بالسبابة يشير بها

সুফয়ান বিন উয়াইনার হাদীস: (নাসায়ী,১২৬৪)

جلس في الصلاة، فافترش رجله اليسرى، ووضع ذراعيه على فخذيه، وأشار بالسبابة يدعو بها

 

উল্লেখিত রাবীদের ভিন্ন ভিন্ন শব্দে হাদীস বর্ণনা প্রমাণ করে যে, তারা আলাদা আলাদা বা একাধিক মজলিসে হাদীসটি শুনেছেন। তাই এদিক থেকে যায়েদাহ বিন কুদামাহর বর্ধিতাংশ গ্রহণযোগ্য।

 

 

৪ নং ইশারা: শিক্ষক ও ছাত্র এক এলাকার হওয়া।

 

হাযেমী বলেন,

أن يكون أحد الحديثين سمعه الراوي من مشايخ بلده، والثاني سمعه من الغرباء فيرجح الأول

প্রাধান্যদানের আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে, রাবী দুই হাদীসের এক হাদীস নিজের এলাকার শাইখ থেকে শুনেছে আর অপরটি অপরিচিত থেকে শুনেছে, তাহলে প্রথমটি প্রাধান্য পাবে। (আল-ই’তিবার ফিন নাসেখ ওয়াল মানসূখ, পৃষ্ঠা, ১২)

ইরাকী বলেন,

ومما يرجح به كون الراوي عنه من أهل بلده

আর যার মাধ্যমে প্রাধান্য পায়, তা হল – শিক্ষক ও বর্ণনাকারী এক এলাকার হওয়া।(আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈযাহ, পৃষ্ঠা, ১৬২)

ইবনু হাজার আসকালানী এক হাদীসের ব্যাপারে বলেন,

وهؤلاء من أهل الكوفة وأبو بردة كوفي فهم أعلم بحديثه من بكير المدني

এরা কূফাবাসী। আর আবূ বুরদাহ হচ্ছেন, কূফার লোক। অতএব, বুকায়ের মাদানী অপেক্ষা এরা তার হাদীসের ব্যাপারে বেশি জানেন । (ফাতহুল বারী, ২/৪২২)

বর্ধিতাংশ বর্ণনাকারী যায়েদাহ বিন কুদামাহ ও তার শিক্ষক আসেম বিন কুলায়েব কূফার অধিবাসী। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ধিতাংশ ঠিক আছে।

স্মর্তব্য: যারা বর্ধিতাংশ বর্ণনা করেননি, তাদের মাঝেও কূফার অধিবাসী রয়েছে। আমরা প্রমাণ করতে চেয়েছি যে, যায়েদাহ বিন কুদামাহ ও তার শিক্ষক আসেম বিন কুলায়ের যেহেতু একই এলাকার, তাই এ বর্ধিতাংশ ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম রাখে।

 

 

৫ নং ইশারা: এক হাদীস একাধিকবার শ্রবণ করা।

 

কেউ যদি কোন হাদীস একাধিকবার শ্রবণ করে, তবে সে-হাদীস প্রাধান্য পাবে। কারণ, এতে ভুলের সম্ভাবনা কম থাকে।

আবূ ওয়ালিদ বলেন,

حماد بن زيد: إذا خالفني شعبة في الحديث تبعته، قال: قلت له: ولم يا أبا إسماعيل؟ قال: إن شعبة كان يسمع ويعيد ويبدي وكنت أنا أسمع مرة واحدة

হাম্মাদ বিন যায়েদ বলেছেন, শু’বা আমার হাদীসের খেলাফ করলে, আমি তার অনুসরণ করি। আমি বললাম, কেন? হে আবূ ইসমাঈল!  তিনি বললেন, তিনি শুনতেন তারপর তা দোহরাতেন। আর আমি মাত্র একবার শুনতাম। ( আল-কামেল, ১/১৬২; শারহু ইলালিত তিরমিযী, ১/৪৫১)

এক হাদীসের ব্যাপারে ইমাম বুখারী বলেন,

هو الصحيح إن معنا قال: حدثنا به مالك بن أنس ثلاث مرات عن ميمونة

এটি সহীহ। কারণ, মা’ন বলেছেন- এটি আমাদেরকে মালেক বিন আনাস তিনবার মায়মূনাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। (শারহু ইলালিত তিরমিযী, ১/২৯৮)

ইবনু হিব্বান যায়েদাহ বিন কুদামাহ সম্পর্কে বলেন,

كان من الحفاظ المتقنين لا يعد سماع حتى يسمعه ثلاث مرات

তিনি হাফেয ও মুতকিন ছিলেন। তিনি (হাদীস) তিনবার না শোনা পর্যন্ত, তা শ্রবণ হিসাবে গণ্য করতেন না। (আস-সিকাত, ৬/৩৪০)

ইবনু হিব্বানের এ বক্তব্য প্রমাণ করে যে, তিনি প্রত্যেকটা হাদীস কমপক্ষে তিনবার শুনতেন। তার মানে উক্ত বর্ধিতাংশ তিনি কমপক্ষে তিনবার শুনেছেন। আর একটি হাদীস কমপক্ষে তিনবার শুনলে তাতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে। অতএব, প্রমাণিত হয় যে, উক্ত বর্ধিতাংশ সঠিক।

 

 

৬নং ইশারা: ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল রাহিমাহুল্লাহ যায়েদাহ বিন কুদামাহ সম্পর্কে বলেন,

 

كان زائدة إذاحدث بالحديث يتقنه

যায়েদাহ বিন কুদামাহ যখন কোন হাদীস বর্ণনা করতেন, তখন খুব ভালভাবে আয়ত্ত করতেন। ( আব্দুল্লাহ বিন হাম্বালের বর্ণনায় “আল-ঈলাল ওয়া মা’রিফাতুর রিজাল”, ২/৩৬৩)

ইমাম আহমাদ বিন হাম্বালের এ বক্তব্য প্রমাণ করে যে, যায়েদাহ বিন কুদামাহ যখন উক্ত বর্ধিতাংশ বর্ণনা করেন, তখন তা খুব ভালভাবে স্বরণে ও আয়ত্তে রেখেছিলেন। তিনি ভুলবশত বা ধারণাবশত তা বর্ণনা করেননি; বরং আয়ত্তে রেখে ও জেনেশুনে তা বর্ণনা করেছিলেন। তাই প্রমাণিত হয় যে, উক্ত বর্ধিতাংশ সঠিক, ভুল বা শায নয়।

সারমর্ম: মুহাদ্দিসগণের এসব মূলনীতির আলোকে বলা যায় যে, নিঃসন্দেহে যায়েদাহ বিন কুদামাহর “আঙুল নাড়াতেন” অংশ সহীহ ও গ্রহণযোগ্য, শায বা অগ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহু আ’লাম।

 

 

আঙুল নাড়ানোর ব্যাপারে সাহাবী ও তাবেয়ীর হাদীস:

 

১) মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাকে বর্ণিত হয়েছে যে,

عن الثوري، عن أبي إسحاق، عن التميمي قال: سئل ابن عباس، عن تحريك الرجل إصبعه في الصلاة، فقال: ذلك الإخلاص

আব্দুর রাযযাক বর্ণনা করেন সাওরী থেকে, তিনি আবূ ইসহাক থেকে, তিনি তামীমী থেকে, তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস রাযি.-কে সালাতে ব্যক্তির আঙুল নাড়ানো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেন, “তা ইখলাস”। (মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক, ৩২৪৪)

 

সানাদের রাবী পরিচিতি:

১) সুফয়ান সাওরী:

তার সম্পর্কে ইবনু হাজার আসকালানী বলেন,

ثقة حافظ فقيه عابد إمام حجة من رؤوس الطبقة السابعة وكان ربما دلس

তিনি সিক্বাহ, হাফেয, ফকীহ, ইবাদাতগুযারী, ইমাম, হুজ্জাত, সপ্তম স্তরের প্রধানদের অন্তর্ভুক্ত, তবে মাঝে মাঝে তাদলীস করতেন। (তাকরীব, রাবী নং ২৪৪৫)

তিনি মুদাল্লিস রাবী হলেও দ্বিতীয় স্তরের মুদাল্লিস। আর দ্বিতীয় স্তরের মুদাল্লিস রাবী মু’আন’আন সূত্রে হাদীস বর্ণনা করলেও অসুবিধা নেই। তাই তিনি এ হাদীস  মু’আন’আন সূত্রে হাদীস বর্ণনা করলেও মুত্তাসিল হিসেবে গণ্য হবে। তাছাড়া তার তাদলীস মুনকাতি হিসেবে ধরলেও এ সানাদে শু’বা তার মুতাবে’ রয়েছে। ( তার মুতাবে’ দেখুন, মুসনাদ আহমাদ, ৩১৫২) তাই এ সানাদ সুফয়ান সাওরীর মু’আন’আনের কারণে যঈফ হবে না।

 

২) আবূ ইসহাক সাবেঈ:

তার সম্পর্কে ইবনু হাজার আসকালানী বলেন,

ثقة مكثر عابد من الثالثة اختلط بأخرة

তিনি সিক্বাহ, অধিক হাদীস বর্ণনাকারী, ইবাদাতগুযারী, তৃতীয় স্তরের, শেষ বয়সে ইখতিলাত হয়ে যায় (হাদীস এলোমেলো করে ফেলেন)। (তাকরীব, জীবনী নং, ৫০৬৫)

তিনি ইখতিলাতের স্বীকার হলেও সুফয়ান সাওরী তার থেকে ইখতিলাতের পূর্বে শুনেন।( আল-কাওয়াকিবুন নাইয়ারাত, পৃষ্ঠা, ৩৫৬) আর হাদীস শাস্ত্রের মূলনীতি হল, কেউ কারো থেকে ইখতিলাতের পূর্বে শুনলে, তার হাদীস গ্রহণযোগ্য।

এছাড়াও আবূ ইসহাক সাবেঈ একজন মুদাল্লিস রাবী। তবে মুসনাদে আহমাদে (মুসনাদ আহমাদ, ৩১৫২) তিনি শ্রবণের বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তাই তার কারণে এ সানাদ যঈফ হবে না।

 

৩) আরবিদাহ তামীমী:

ঈজলী তাকে সিক্বাহ বলেছেন। (আস-সিকাত, নং ৫৪)

ইবনু হিব্বান তাকে তার “আস-সিকাত” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। (আস-সিকাত, নং ১৭৯১)

ইবনু হাজার আসকালানী তাকে “সদূক” বলেছেন। (তাকরীব,  নং ২৯৭)

অতএব, এ হাদীস হাসান।

 

২) মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাকে  বর্ণিত হয়েছে যে,

عن الثوري، عن عثمان بن الأسود، عن مجاهد قال: «تحريك الرجل إصبعه في الصلاة مقعمة للشيطان

আব্দুর রাযযাক  বর্ণনা করেছেন সুফয়ান সাওরী থেকে, তিনি উসমান বিন আসওয়াদ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, মুজাহিদ বলেন, সালাতে ব্যক্তির আঙুল নাড়ানো শয়তানকে আঘাত করার ন্যায়। (মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক, ৩২৪৫)

 

সানাদের রাবী পরিচিতি:

১) সুফয়ান সাওরী:

তার পরিচিতি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। তাছাড়া মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহতে তার মুতাবে’ রয়েছেন জা’ফার বিন গিয়াস (মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, ২৯৬৯২)

২) উসমান বিন আসওয়াদ:

তাকে ইবনু হাজার আসকালানী সিক্বাহ ও সাবত বলেছেন। (তাকরীব, জীবনী নং ৪৪৮৩)

৩) মুজাহিদ বিখ্যাত তাবেয়ী।

অতএব, এ হাদীস সহীহ।

 

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – এর আমল ও সাহাবী-তাবেয়ীর বক্তব্য থেকে প্রমাণিত হয় যে, তাশাহহুদে আঙুল নাড়ানো সুন্নাত। আল্লাহ আমাদেরকে এই সুন্নাতের উপরে আমল করার তাওফীক দিন! আমীন ইয়া রব্বাল ‘আলামীন।

[লেখক মাদরাসাতুল হাদীস, নাজিরবাজার, ঢাকাতে শিক্ষকতা করছেন।]

স্বত্বাধিকারী © www.darhadith.com

Share This Post
error:

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow