কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।। সম্মানিত ভিজিটর যেকোন প্রকারের যোগাযোগের জন্য অনুগ্রহ করে "Contact Menu" অথবা "Facebook Chat" বাটন ব্যবহার করুন।।

উদহিয়্যাহতে বা কোরবানিতে শরীকানার বিধান

মূলঃ আবূ মুহাম্মাদ ‘আলী ইবন আহমাদ ইবন সা’য়িদ ইবন হাযম

অনুবাদঃ আবূ হাযম মুহাম্মাদ সাকিব চৌধুরী বিন শামস আদ দীন আশ শাতকানী

সম্পাদনাঃ মুহাম্মাদ মাহিন আলম

 

মাস’আলাহঃ এক উদহিয়্যাহ বা ক্বুরবানীতে শরীক করা জায়েয, সেই শরীক জামআত যে পরিমাণই হোক না কেন, হোক তা একই পরিবারের অথবা অন্যেরা (একাধিক পরিবারের)। আর কারো জন্য এটি জায়েয, যে কেউ উদহিয়্যাহ করবে সেই সংখ্যা দ্বারা যা দ্বারা রাসূলুল্লাহﷺ উদহিয়্যাহ করেছেন দুটি কালো-সাদা মেষ দ্বারা যেভাবে আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি[১] আর তিনি এর উর্ধ্বে করবার ব্যাপারে বারণ করেন নি। উদহিয়্যাহ ভাল কাজ। সুতরাং ভাল কাজে শরীক হওয়া উত্তম।

 

আবূ হানিফাহ, সুফিয়ান আস সাউরী, আল আউযা’ঈ, আশ শাফি’য়ী, আহমাদ, ইসহাক, আবূ সাউর, আবূ সুলাইমান – এরা সকলে গরুর ক্ষেত্রে অথবা উটের ক্ষেত্রে সাত বা তার কমকে জায়েয বলেছেন (আত্মীয়তার) সম্পর্কহীন বা সম্পর্কযুক্ত মানুষের ক্ষেত্রে যাতে তারা শরীক হবে। এর অধিককে অনুমোদন দেন নি। আর ভেড়ার ক্ষেত্রে একজন ব্যতীত আর কারো জন্যে অনুমোদন দেন নি।

মালিক বলেনঃ উট, গরু অথবা ভেড়া হতে একটি মাথা জায়েয একজনের উপর অথবা একই পরিবারের উপর – যদিও তাদের সংখ্যা বেশী হয়, আর তারা সংখ্যায় সাতের অধিক হয় যদি তারা এতে নফলে শরীক হয় – আর তাদের মধ্যে এ সকলকে শরীকানায় অথবা এর উর্ধ্বে কেনা জায়েয নয়, তেমনি তা জায়েয নয় (আত্মীয়তার) সম্পর্কহীনদের জন্যেও।

আবূ মুহাম্মাদ (ইবনু হাযম) বলেন, উদহিয়্যাহ ভাল কাজ আর তা আল্লাহভীরুতার সাথে নফল, সুতরাং নফলের মধ্যে শরীক হওয়া জায়েয, যাকে নাস (অর্থাৎ আল ক্বুরআন ও আস সুন্নাহ) মানা করেনি, আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেনঃ

وَافْعَلُوا الْخَيْرَ

এবং তোমরা ভাল কাজ কর। (সূরাহ আল হাজ্জ ২২ঃ৭৭)

সুতরাং এতে শরীক ব্যক্তিরা ভাল কাজকারী। সুতরাং (আত্মীয়তার) সম্পর্কহীনদের তাখসীস (অর্থাৎ খাস করা) করে মানা করবার কোন অর্থ হয়না। আর পশু ক্রয় করাকে মানা করবারও কোন অর্থ হয় না। কেননা এ সকল বক্তব্যই সত্যিকার অর্থে প্রমাণহীন – না আল ক্বুরআন হতে, না আস সুন্নাহ হতে, না তা কোন নিম্ন পর্যায়ের রেওয়ায়াত হতে, আর তা ক্বিয়াস (অর্থাৎ সাধারণভাবে অপ্রাপ্ত বিষয়কে প্রাপ্ত বিষয়ের সাথে মিলিয়ে রায় দেওয়া।) হতে।

আল লাইস সফরে উদহিয়্যাতে শরীকানা জায়েয করেছেন – আর এই তাখসীসেরও আসলে কোন অর্থ নেই।

رُوِّينَا مِنْ طَرِيقِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ نَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَوْ أَبِي هُرَيْرَةَ «عَنْ رَسُولِ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -: أَنَّهُ كَانَ إذَا أَرَادَ أَنْ يُضَحِّيَ اشْتَرَى كَبْشَيْنِ عَظِيمَيْنِ، سَمِينَيْنِ، أَقَرْنَيْنِ أَمْلَحَيْنِ، مَوْجُوءَيْنِ، فَيَذْبَحُ أَحَدَهُمَا عَنْ أُمَّتِهِ مَنْ شَهِدَ لِلَّهِ بِالتَّوْحِيدِ وَلَهُ بِالْبَلَاغِ، وَيَذْبَحُ الْآخَرَ عَنْ مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ

‘আইশাহ মু’মিনদের মাতা হতে বা আবূ হুরাইরাহ[২]  রাসূলুল্লাহﷺ হতে বর্ণনা করেনঃ যদি তিনি উদহিয়্যাহর নিয়্যাত করতেন তবে দুটি বড়, মোটা, শিংযুক্ত, কালো-সাদা খাসী করা মেষ কিনতেন। অতঃপর তাদের একটি তিনি তাঁর উম্মাতের উপর দিতেন যারা তাওহীদ ও তাঁর দাওয়াত পৌঁছানোর ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছে। অপরটি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের জন্যে দিতেন।[৩]

সুতরাং এটি তাদের কাছে সাহীহ আসার।[৪] আর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আকীল এর রিওয়ায়াতের উপর মালিকীরা নির্ভর করে সালাতের খবরের ব্যাপারেঃ “এর (সালাতের) হারামকারী হচ্ছে তাকবীর, এর হালালকারী হচ্ছে তাসলীম।”

وَرُوِّينَا مِنْ طَرِيقِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ: الْبَدَنَةُ عَنْ وَاحِدٍ، وَالْبَقَرَةُ عَنْ وَاحِدٍ، وَالشَّاةُ عَنْ وَاحِدٍ، لَا أَعْلَمُ شِرْكًا

ইবনু উমার হতে বর্ণিত, আল বাদানাহ বা উট একজনের জন্যে, গরু একজনের জন্যে, ভেড়া একজনের জন্যে। আমি এতে শরীক জানিনা।

وَصَحَّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ: لَا أَعْلَمُ دَمًا وَاحِدًا يُرَاقُ عَنْ أَكْثَرَ مِنْ وَاحِدٍ

মুহাম্মাদ ইবন সীরীন হতে প্রমাণিতঃ আমি একটি পশুর রক্ত একজনের অধিকের জন্যে পছন্দনীয় জানি না।

وَصَحَّ مِنْ طَرِيقِ ابْنِ أَبِي شَيْبَةَ عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ عَنْ مِسْعَرِ بْنِ كِدَامٍ عَنْ حَمَّادِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ: لَا تَكُونُ ذَكَاةُ نَفْسٍ عَنْ نَفْسَيْنِ وَكَرِهَهُ الْحَكَمُ

এবং ইবনু আবী শাইবাহ এর তারীকাহ হতে প্রমাণিত যে, হাম্মাদ বিন আবী সুলাইমান বর্ণনা করেন, কোন একজনের যাকাত দু’জনের উপর হয়না যখন সে সেই হুকুম অপছন্দ করে।

وَقَوْلٌ آخَرُ رُوِّينَاهُ مِنْ طَرِيقِ ابْنِ أَبِي شَيْبَةَ عَنْ حَاتِمِ بْنِ إسْمَاعِيلَ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ: الْجَزُورُ، وَالْبَقَرَةُ، عَنْ سَبْعَةٍ مِنْ أَهْلِ الْبَيْتِ لَا يَدْخُلُ مَعَهُمْ مِنْ غَيْرِهِمْ

আর অপর বক্তব্য যা আমরা রেওয়ায়াত করেছি ইবনু আবী শাইবাহ হতে……আলী ইবনু আবী তালিব তিনি বলেন, উট ও গরু একই ঘরের সাতজন হতে, তাদের সাথে অপরের কোন প্রবেশ নেই।

এ সকল কথাই মালিকের বক্তব্যের বিপরীত কেননা ইবনু উমার একটি (পশুর) মাথাকে একজন ব্যতীত আর কারো জন্যে জায়েয বলেন নি। তেমনিভাবে ইবনু সীরীন। আর হাম্মাদ ও আলী উট বা গরুর ক্ষেত্রে সাত ভাগ করা জায়েয করেছেন শুধু একই পরিবারের সদস্যের জন্যে, এর বেশী নয়।

وَمِنْ طَرِيقِ ابْنِ أَبِي شَيْبَةَ عَنْ ابْنِ عُلَيَّةَ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ قَالَتْ: الْبَقَرَةُ وَالْجَزُورُ عَنْ سَبْعَةٍ

আবার ইবনু আবী শাইবাহ এর তারীকাতে বর্ণিত ….’আয়িশাহ মু’মিনদের মা বলেন, গরু আর উট সাত ভাগে।

وَعَنْ ابْنِ أَبِي شَيْبَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، وَسَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، وَالْحَسَنِ قَالُوا كُلُّهُمْ: الْبَقَرَةُ عَنْ سَبْعَةٍ وَالْجَزُورُ عَنْ سَبْعَةٍ يَشْتَرِكُونَ فِيهَا وَإِنْ كَانُوا مِنْ غَيْرِ أَهْلِ دَارٍ وَاحِدَةٍ

আবার ইবনু আবী শাইবাহ বর্ণনা করেন…. আনাস বিন মালিক ও সা’য়ীদ বিন আল মুসায়্যিব ও আল হাসান – এদের সকলে বলেছেনঃ গরু সাত ভাগে ও উট সাত ভাগে শরীক যদিও তারা একই বাড়ির লোকেরা না হয়।

وَمِنْ طَرِيقِ ابْنِ أَبِي شَيْبَةَ نَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ دَاوُد بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ قَالَ: أَدْرَكْت أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – وَهُمْ مُتَوَافِرُونَ كَانُوا يَذْبَحُونَ الْبَقَرَةَ وَالْبَعِيرَ عَنْ سَبْعَةٍ

আবার ইবনু আবী শাইবাহ এর তারীকাহ হতে ….. আশ শা’বী বলেন, আমি মুহাম্মাদﷺ এর সাহাবীদের দেখা পেয়েছিলাম আর তারা ছিলেন সংখ্যায় অনেক। আর তারা গরু আর উট সাত ভাগে জবাই করেছেন।

وَمِنْ طَرِيقِ وَكِيعٍ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ إبْرَاهِيمَ قَالَ: كَانَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – يَقُولُونَ: الْبَقَرَةُ، وَالْجَزُورُ عَنْ سَبْعَةٍ

আবার ওয়াকী’র তারীকাহ হতে …. ইবরাহীম বলেন, মুহাম্মাদﷺ এর সাহাবীরা বলতেন, গরু ও উট সাত ভাগে।

আলী (ইবনু হাযম) বলেনঃ এই হাম্মাদ নিশ্চিতভাবে বর্ণনা করেছেন যা আমরা সাহাবীদের ব্যাপারে উল্লেখ করেছি। এরপর বিরোধিতা করেছেন যা বর্ণিত হয়েছে তার আর এ বিষয়কে ইজমা’ বলে রায় দেননি যেভাবে তারা ধারণা করে থাকে।

وَعَنْ ابْنِ أَبِي شَيْبَةَ عَنْ ابْنِ فُضَيْلٍ عَنْ مُسْلِمٍ عَنْ إبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ الْبَقَرَةُ وَالْجَزُورُ عَنْ سَبْعَةٍ

আবার ইবনু আবী শাইবাহ হতে …. ইবনু মাস’উদ হতে বর্ণিত – গরু ও উট সাত ভাগে।

وَعَنْ وَكِيعٍ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ حُصَيْنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ خَالِدِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ قَالَ: الْبَقَرَةُ عَنْ سَبْعَةٍ – وَرُوِّينَاهُ أَيْضًا عَنْ حُذَيْفَةَ، وَجَابِرٍ، وَعَلِيٍّ، وَصَحَّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ الْبَدَنَةُ عَنْ عَشَرَةٍ – وَرُوِّينَا ذَلِكَ أَيْضًا عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ الصَّحَابَةِ – رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ

ওয়াকী হতে বর্ণিত ‘…. আবী মাস’উদ, তিনি বলেন, গরু সাত ভাগে। আমরা একে হুযাইফাহ, জাবির, আলী হতেও উল্লেখ করেছি। সা’য়ীদ বিন আল মুসায়্যিব হতে – উট দশ ভাগে। আমরা আরো বর্ণনা করেছি ইবনু আব্বাস সাহাবী হতে রাদিয়াল্লাহু আনহুম।

আবার যারা (আত্মীয়তার) সম্পর্কহীনদের জন্যে উদহিয়্যাহতে শরীক করা জায়েয করেছেন – গরুর মধ্যে সাত ভাগে আর উটের মধ্যে সাত ভাগে – ত্বাউস, আবূ উসমান আন নাহদী, ‘আত্বা আর তাব’ঈনদের অধিকাংশ।

فَأَمَّا ابْنُ عُمَرَ فَإِنَّنَا رُوِّينَا مِنْ طَرِيقِ ابْنِ أَبِي شَيْبَةَ نَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ نَا مُجَالِدٌ عَنْ الشَّعْبِيِّ قَالَ: سَأَلْت ابْنَ عُمَرَ عَنْ الْبَقَرَةِ وَالْبَعِيرِ تُجْزِي عَنْ سَبْعَةٍ؟ فَقَالَ: كَيْفَ، أَوَّلُهَا سَبْعَةُ أَنْفُسٍ؟ قُلْت: إنَّ أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – الَّذِينَ بِالْكُوفَةِ أَفْتَوْنِي فَقَالُوا: نَعَمْ قَالَهُ النَّبِيُّ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ، فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: مَا شَعُرْت

এখন ইবনু উমারের ক্ষেত্রে, আমরা ইবনু আবী শাইবা থেকে বর্ণনা করেছি …. আশ শা’বী তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম গরু এবং উটের ব্যাপারে – তাদের কি সাত ভাগে ভাগ করা যাবে? তিনি প্রশ্ন করলেনঃ কিভাবে? তাদের কি সাতটি আত্মা রয়েছে? আমি বললাম, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদﷺ এর সাহাবীরা যারা কুফাতে ছিলেন তাঁরা আমাকে এ ফাতওয়া দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেনঃ “এ কথা বলেছেন নবীﷺ ও আবূ বাকর ও উমার।” তখন ইবনু উমার আমাকে বললেন, “আমি জ্ঞাত ছিলাম না”।

এটি ইবনু উমার হতে তাউয়াক্কুফ (অর্থাৎ মত হতে বিরত থাকা। এক্ষেত্রে মত ত্যাগ)।

وَمِنْ طَرِيقِ وَكِيعٍ عَنْ عَرِيفِ بْنِ دِرْهَمٍ عَنْ جَبَلَةَ بْنِ سُحَيْمٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: الْبَقَرَةُ عَنْ سَبْعَةٍ

আবার ওয়াক্বী’র তারীকাহ হতে ‘…. ইবনু উমার তিনি বলেন, “গরু সাত ভাগে।” – এটি তাঁর রুজু’ (অর্থাৎ ফেরত আশা) করবার দিকে নির্দেশ করে।

আর এটি হচ্ছে তা, যাতে মালিক খিলাফ করেছেন সে সকল প্রত্যেক রিওয়ায়াতে যা আমরা সাহাবীদের থেকে বর্ণনা করেছি সেই রিওয়ায়াত ব্যতীত যা থেকে ইবনু উমার রুজু’ করেছেন। আর অধিকাংশ তাবি’য়ী এতে খিলাফ করেছেন।

আবূ মুহাম্মাদ (ইবনু হাযম) বলেন, হুজ্জা(অর্থাৎ প্রমাণ) হচ্ছে বরং রাসূলুল্লাহﷺ এর কাজে, আর তিনি আলাইহিস সালাম নফল বা সুন্নাতের ক্ষেত্রে দশ এর অধিককে মানা করেন নি, বা সাতের! বরং নিশ্চয়ই তিনি তাঁর উদহিয়্যাহতে পুরো উম্মাতকে শরীক করেছেন! – আর সকল তাওফীক্ব আল্লাহ্‌র নিকট।

(আল মুহাল্লা,আবূ মুহাম্মাদ ‘আলী ইবন আহমাদ ইবন সা’য়িদ ইবন হাযম, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৫০৪-৫০৬, মাকতাবাতুল মা’আরিফ)

 

পাদটীকা

[১] এ হাদীসটি নিম্নরূপঃ

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، قَالَ قَالَ حَيْوَةُ أَخْبَرَنِي أَبُو صَخْرٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِكَبْشٍ أَقْرَنَ يَطَأُ فِي سَوَادٍ وَيَبْرُكُ فِي سَوَادٍ وَيَنْظُرُ فِي سَوَادٍ فَأُتِيَ بِهِ لِيُضَحِّيَ بِهِ فَقَالَ لَهَا ‏”‏ يَا عَائِشَةُ هَلُمِّي الْمُدْيَةَ ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏”‏ اشْحَذِيهَا بِحَجَرٍ ‏”‏ ‏.‏ فَفَعَلَتْ ثُمَّ أَخَذَهَا وَأَخَذَ الْكَبْشَ فَأَضْجَعَهُ ثُمَّ ذَبَحَهُ ثُمَّ قَالَ ‏”‏ بِاسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنْ مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ وَمِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ ضَحَّى بِهِ ‏.

রাসূলুল্লাহﷺ কুরবানী করার জন্য দু’টি শিং বিশিষ্ট দুম্বা আনতে আদেশ দেন যেটি কালোর মধ্যে চলাফেরা করতো (অর্থাৎ পায়ের গোড়া কালো ছিল), কালোর মধ্যে শুতো (অর্থাৎ পেটের নিম্নাংশ কালো ছিল) এবং কালোর মধ্য দিয়ে দেখতো (অর্থাৎ চোখের চতুর্দিকে কালো ছিল)। সেটি আনা হলে তিনি আয়িশা (রাঃ) কে বললেন, ছুরিটি নিয়ে এসো। এরপর বলেন, ওটা পাথরে ধার দাও। আমি ধার দিলাম। পরে তিনি সেটি নিলেন এবং দুম্বাটি ধরে শোয়ালেন। এরপর সেটা যবেহ করলেন এবং বললেনঃ

بِاسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنْ مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ وَمِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ

(অর্থঃ আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ, মুহাম্মাদের পরিবার ও তার উম্মাতের পক্ষ থেকে এটা কবুল করে নাও।)

এরপর এটা কুরবানী করেন।

(সাহীহ মুসলিম, হা/১৯৬৭)

 

অনেকের মতে রাসূলুল্লাহﷺ উপরোক্ত কাজ শুধু দু’আর কারণে করেছেন। আবার অনেকে বলেন, তা শুধু রাসূলুল্লাহﷺ এর জন্যে খাস। আবার কেউ কেউ বলছে তা মানসুখ।

শাইখ মুহীউদ্দীন আন নাওয়াওয়ী এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন,

তাহাওয়ী দাবী করেন যে, এই হাদীস মানসুখ ও মাখসুস। আর উলামাবৃন্দ এতে তাঁকে ভুল সাব্যস্ত করেছেন, কেননা নাসখ ও তাখসীস শুধু দাবীর দ্বারা সাব্যস্ত হয় না।

(আল মিনহাজ শারহ সাহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ, মুহীউদ্দীন আন নাওয়াওয়ী, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৪৯, দার ইহয়া আত তুরাস আল ‘আরাবী)

একই হাদীস পাওয়া যায় আবূ দাউদেঃ

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ يَعْنِي الْإِسْكَنْدَرَانِيَّ، عَنْ عَمْرٍو، عَنِ الْمُطَّلِبِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: شَهِدْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْأَضْحَى بِالْمُصَلَّى، فَلَمَّا قَضَى خُطْبَتَهُ نَزَلَ مِنْ مِنْبَرِهِ وأُتِيَ بِكَبْشٍ فَذَبَحَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ، وَقَالَ: «بِسْمِ اللَّهِ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، هَذَا عَنِّي، وَعَمَّنْ لَمْ يُضَحِّ مِنْ أُمَّتِي

জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঈদুল আযহার দিন আমি রাসূলুল্লাহﷺ-এর সাথে ঈদগাহে উপস্থিত হলাম। তিনি খুৎবা শেষে মিম্বার থেকে নামলেন। একটি বকরী আনা হলো। রাসূলুল্লাহﷺ তা নিজ হাতে যবাহ করেন এবং বলেনঃ ‘‘আল্লাহর নামে শুরু করছি, আল্লাহ মহান। এই কুরবানী আমার ও আমার উম্মাতের যারা কুরবানী করতে অক্ষম তাদের পক্ষ থেকে।’’

(সুনান আবূ দাউদ, হা/২৮১০)

 

এ দুটি হাদীস ইবনু হাযমের সবচাইতে বড় দলীল। এ বিষয়ে প্রবন্ধের শেষে আসছে।

শরীক ক্বুরবানীর আরো দলীল রয়েছে নিম্নের হাদীসেঃ

حَدَّثَنَا أَبُو عَمَّارٍ الحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ قَالَ: حَدَّثَنَا الفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ الحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ عِلْبَاءَ بْنِ أَحْمَرَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: «كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ فَحَضَرَ الأَضْحَى فَاشْتَرَكْنَا فِي البَقَرَةِ سَبْعَةً، وَفِي البَعِيرِ عَشَرَةً»: وَفِي البَابِ عَنْ أَبِي الأَسَدِ السُّلَمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، وَأَبِي أَيُّوبَ: حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لَا نَعْرِفُهُ إِلَّا مِنْ حَدِيثِ الفَضْلِ بْنِ مُوسَى

ইবনু আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক ভ্রমণে আমরা রাসূলুল্লাহﷺ এর সাথে ছিলাম। এরকম পরিস্থিতিতে কুরবানীর ঈদ উপস্থিত হল। তখন আমরা একটি গরুতে সাতজন অংশীদার হয়ে এবং একটি উটে দশজন অংশীদার হয়ে কুরবানী আদায় করলাম।

আবূল আসাদ আস-সুলামী পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্রে এবং আবূ আইয়ূব (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। আমরা এ হাদীস বিষয়ে শুধুমাত্র ফাযল ইবনু মূসার সূত্রেই জেনেছি।

(সুনান আত তিরমীযী, হা/১৫০১)

 

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ: «نَحَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالحُدَيْبِيَةِ البَدَنَةَ عَنْ سَبْعَةٍ، وَالبَقَرَةَ عَنْ سَبْعَةٍ»: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَالعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ العِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَغَيْرِهِمْ، وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، وَابْنِ المُبَارَكِ، وَالشَّافِعِيِّ، وَأَحْمَدَ، وَإِسْحَاقَ وقَالَ إِسْحَاقُ: «يُجْزِئُ أَيْضًا البَعِيرُ عَنْ عَشَرَةٍ وَاحْتَجَّ بِحَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ

জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা হুদাইবিয়া নামক জায়গাতে রাসূলুল্লাহﷺ এর সাথে একটি উটে সাতজন অংশীদার হয়ে এবং একটি গরুতেও সাতজন অংশীদার হয়ে কুরবানী সম্পন্ন করেছি।

এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুসারে রাসূলুল্লাহﷺ এর অভিজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগণ আমল করেছেন। একই অভিমত সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের (সাতজন পর্যন্ত উট-গরুতে অংশীদার হওয়া যায়)। ইসহাক (রাহিমাহুল্লাহ) আরো বলেন, দশজন মানুষও একটি উটে অংশীদার হতে পারে। তিনি ইবনু আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসকে তার এ মতের সমর্থনে দলীল হিসাবে উল্লেখ করেছেন।

(সুনান আত তিরমীযী, হা/১৫০২)

 

এছাড়া নাসাঈ ও ইবনু মাজাহতেও উপরোক্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে। কলেবর রক্ষার্থে এখানে আপাতত আর উল্লেখ করা হল না।

 

[২]  মুহাল্লার অপর নুসখাতে “ও আবূ হুরাইরাহ” এসেছে। (আহমাদ শাকীরের তাহক্বীক হতে একই বইয়ের পাদটীকায় পৃষ্ঠা ৫০৫)

[৩] হাফিয ইবনু হাজার আল আসক্বালানী তাঁর “তালখীস” গ্রন্থে উল্লেখ করেনঃ সাউরীর এই রিওয়ায়াত আহমাদ, ইবনু মাজাহ, বায়হাক্বী ও হাকিম বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আক্বীল ‘আন ‘আয়িশাহ অথবা আবূ হুরাইরাহ হতে। আর একে হাকিম তাখরীজ করেছেন যুহাইর বিন মুহাম্মাদ ‘আন ইবনু আক্বীল ‘আন আবী রাফি’ হতে। (আহমাদ শাকীরের তাহক্বীক হতে একই বইয়ের পাদটীকায় পৃষ্ঠা ৫০৫)

[৪] ইবনু হাযম এখানে ঠাট্টা করছেন মালিকীদের নিয়ে, কেননা ইবনু হাযমের নিকট ইবনু আক্বীল দা’ঈফ।

[*] ইবনু হাযমের লেখা আমি যতবার অনুবাদ করি, প্রায় সময় এর পরের কাজ গুলো আমাকে যা করতে হয় তা হচ্ছে ইবনু হাযমের ইসতিদলাল বুঝিয়ে দেওয়া। তাই এখানে আমি খুব সংক্ষিপ্ত আকারে ইবনু হাযম কি করতে চেয়েছেন তা বুঝানোর চেষ্টা করিঃ

ক। ক্বুরবানীর বিষয়টি একটি সুন্নাহ আর ভাল কাজ। ভাল কাজে শরীক হওয়া জায়েয। আবার রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজ থেকে এ বিষয়ে কোন হাদ বা সীমা বেঁধে দেন নি।

খ। ইবনু হাযম দলীল দিয়েছেন রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে একাধিক ব্যক্তির অংশীদারিত্বে উদহিয়্যাহ করেছেন। (এ সকল দলীল এ মাস’আলার পূর্বে দেওয়া হয়েছে, তাই আমি নিজে এ সম্পর্কিত হাদীসগুলো পাঠকের সুবিধার্থে এখানে উল্লেখ করে দিলাম। দেখুন [১] নং পাদটীকা)

গ। ইবনু হাযম উলামাদের আসার উপস্থাপন করেছেন যেখানে উলামাবৃন্দ সংখ্যার ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। অর্থাৎ এই বিষয়ে সালাফদের নিজেদের মধ্যে অনেক প্রকার মত আছেন।

ঘ। রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে পুরো উম্মাতকে শরীক করেছেন, তাই কোন পশু ক্বুরবানীতে সীমাহীন একাধিক শরীক রাখতে কোন বাঁধা নেই।

ঙ। যে কেউ ‘ঘ’ কে অস্বীকার করবে এই বলে যে রাসূলুল্লাহﷺ শুধু দু’আর স্বার্থে এমন বলেছেন, বা এটি রাসূলুল্লাহﷺ এর জন্যে খাস বা এটি মানসুখ হয়ে গিয়েছে, তাকে এ বিষয়ে দলীল স্থাপন করতে হবে। শুধু দাবী এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। (দেখুন পাদটীকা ১ এ মুহীউদদীন আন নাওয়াওয়ীর দাবী)

চ। একাধিক পশু শুধু মাত্র সফরে ক্বুরবানী করা যাবে বা একাধিক পরিবারের জন্যে করা যাবে না, এমন দাবীর জন্যে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মৌখিক বক্তব্যে মানার দলীল থাকা প্রয়োজন, কেননা আমাদের হাতে আল ক্বুরআনের ২২ঃ৭৭ রয়েছে, যাতে খাইর বা ভাল কাজ করতে বলা হয়েছে। তাই একমাত্র মৌখিক বক্তব্যে মানার দলীল দ্বারাই এখন এই মূলনীতির এই বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যত্যয় প্রমাণ করবে।

 

স্বত্বাধিকারী © www.darhadith.com।

Share This Post
error:

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow